রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের সেকশন অফিসার শাহ মো. জাহাঙ্গীর কামাল চৌধুরী (শিমুল)-এর বিরুদ্ধে আবারও আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সেলিম হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী হল প্রভোস্ট ও উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে শিমুল ও অপর এক কর্মচারী সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা, দায়িত্বে অবহেলা এবং চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইবনে করিমের ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি হল থেকে ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার সময় প্রায় ১৫ হাজার টাকার বকেয়া নগদে শিমুলের কাছে পরিশোধ করেন। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় ওই বকেয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করলে ঘটনাটি সামনে আসে।
অনুসন্ধানে শিমুল টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও ব্যাংকে জমা দেওয়ার কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। এমনকি অর্থ ব্যাংকে জমা হয়েছে নাকি তার কাছেই রয়েছে—এ বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, হিসাব বইয়ের একই পাতায় অন্য শিক্ষার্থীদের তথ্য কলমে লেখা হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর তথ্য পেন্সিলে লেখা ছিল, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে শিমুল দাবি করেন, কিছু শিক্ষার্থীর তাড়াহুড়ার কারণে তিনি নগদ অর্থ গ্রহণ করে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন এবং এতে তৎকালীন প্রভোস্টের সম্মতি ছিল। তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আগের বক্তব্য পরিবর্তন করে অন্য এক প্রভোস্টের নাম উল্লেখ করেছেন বলেও জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগে আরও বলা হয়, হল অ্যালটমেন্টের সময় “ফর্ম বিক্রি”র নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হতো, যদিও এ ধরনের কোনো অনুমোদিত ফি ছিল না। এছাড়া ক্লিয়ারেন্সের সময় “মিষ্টি খাওয়ানো”র কথা বলে জামানতের টাকা থেকেও অর্থ কেটে রাখার অভিযোগ ওঠে।
হলের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ সিরিজের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, হল অ্যালটমেন্টের সময় প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০ টাকা নেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত বকেয়ার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হতো। তার দাবি, এক শিক্ষার্থীর প্রকৃত বকেয়া ১৭০০ টাকা হলেও প্রথমে ৪০০০ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে হিসাব যাচাই করে কম টাকার সত্যতা পাওয়া যায়।
এছাড়া ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, হল-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত চার্জ দাবি করা হতো এবং আপত্তি জানালে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। অন্যদিকে জয়ন্ত বিশ্বাস নামে আরেক শিক্ষার্থী রিসিপ্ট সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন।
সাম্প্রতিক অভিযোগের পর হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শিমুল বলেন, “আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। ব্যক্তিগত গাফিলতির কারণে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।”
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হল প্রশাসন নথিপত্র পুনরায় নিরীক্ষা শুরু করে। তদন্তে আর্থিক অনিয়মের একটি অভিযোগ দৃশ্যমান হয়েছে। প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।”
ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অতীতেও অনুমোদনহীনভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিমুলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া হলের একাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সেলিম হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী হল প্রভোস্ট ও উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে শিমুল ও অপর এক কর্মচারী সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা, দায়িত্বে অবহেলা এবং চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইবনে করিমের ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি হল থেকে ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার সময় প্রায় ১৫ হাজার টাকার বকেয়া নগদে শিমুলের কাছে পরিশোধ করেন। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় ওই বকেয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করলে ঘটনাটি সামনে আসে।
অনুসন্ধানে শিমুল টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও ব্যাংকে জমা দেওয়ার কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। এমনকি অর্থ ব্যাংকে জমা হয়েছে নাকি তার কাছেই রয়েছে—এ বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, হিসাব বইয়ের একই পাতায় অন্য শিক্ষার্থীদের তথ্য কলমে লেখা হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর তথ্য পেন্সিলে লেখা ছিল, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে শিমুল দাবি করেন, কিছু শিক্ষার্থীর তাড়াহুড়ার কারণে তিনি নগদ অর্থ গ্রহণ করে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন এবং এতে তৎকালীন প্রভোস্টের সম্মতি ছিল। তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আগের বক্তব্য পরিবর্তন করে অন্য এক প্রভোস্টের নাম উল্লেখ করেছেন বলেও জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগে আরও বলা হয়, হল অ্যালটমেন্টের সময় “ফর্ম বিক্রি”র নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হতো, যদিও এ ধরনের কোনো অনুমোদিত ফি ছিল না। এছাড়া ক্লিয়ারেন্সের সময় “মিষ্টি খাওয়ানো”র কথা বলে জামানতের টাকা থেকেও অর্থ কেটে রাখার অভিযোগ ওঠে।
হলের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ সিরিজের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, হল অ্যালটমেন্টের সময় প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০ টাকা নেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত বকেয়ার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হতো। তার দাবি, এক শিক্ষার্থীর প্রকৃত বকেয়া ১৭০০ টাকা হলেও প্রথমে ৪০০০ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে হিসাব যাচাই করে কম টাকার সত্যতা পাওয়া যায়।
এছাড়া ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, হল-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত চার্জ দাবি করা হতো এবং আপত্তি জানালে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। অন্যদিকে জয়ন্ত বিশ্বাস নামে আরেক শিক্ষার্থী রিসিপ্ট সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন।
সাম্প্রতিক অভিযোগের পর হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শিমুল বলেন, “আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। ব্যক্তিগত গাফিলতির কারণে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।”
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হল প্রশাসন নথিপত্র পুনরায় নিরীক্ষা শুরু করে। তদন্তে আর্থিক অনিয়মের একটি অভিযোগ দৃশ্যমান হয়েছে। প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।”
ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অতীতেও অনুমোদনহীনভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিমুলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া হলের একাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।