স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহে আরাফাতকে হত্যা, ৩ আসামির স্বীকারোক্তি

আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৭:২৫:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৭:২৫:১৩ অপরাহ্ন
নারায়ণগঞ্জে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মেধাবী ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যার ঘটনার দীর্ঘ নয় মাস পর তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

স্বীকারোক্তিতে আসামিরা জানান, আরাফাতের সঙ্গে মিমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহ করছিলেন তার স্বামী আজিম। এরই জেরে বন্ধু ফয়সালের সঙ্গে পরামর্শ করে আরাফাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

রোববার (১০ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে মূল আসামি আজিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতার অপর দুই আসামি ফয়সাল ও মীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেত আদালতে পাঠানো হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এ ঘটনায় গ্রেফতারদের মধ্যে মূল আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এ দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছেন মামলার বাদী ও নিহত আরাফাতের মা আফরিন আক্তার। তিন আসামি গ্রেফতারের খবর শুনে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে উপস্থিত হন তিনি।

এ সময় সাংবাদিকদের আফরিন আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে নিরপরাধ। তার কোনো দোষ ছিল না। অন্যায়ভাবে তাকে খুন করা হয়েছে। আমি আমার একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছি। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচাই চাই। খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। দেশের আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি আমার এই দাবি।

বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাত ছিল একমাত্র ছেলে সন্তান। তার আরও দুটি মেধাবী বোন রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহরের চাষাঢ়া এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর ১৭ বছর বয়সের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে ও লেভেল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে এ লেভেলে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আরাফাত। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ছেলের সন্ধান না পেয়ে পরদিন সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মা আফরিন আক্তার।

নিখোঁজের দুদিন পর ১৩ আগস্ট সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেক থেকে আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তবে তদন্তের কোনো অগ্রগতি না হলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় জেলা পিবিআইকে। দীর্ঘ তদন্তের পর পিবিআইয়ের আভিযানিক দল গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আজিম হোসাইনকে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৬ এপ্রিল শনির আখড়া থেকে আজিমের বন্ধু ফয়সালকে এবং রূপগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় আজিমের স্ত্রী নুসরাত জাহান মীমকে।

পিবিআই জানায়, আরাফাতের সঙ্গে মিমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহ করছিলেন তার স্বামী আজিম। এরই জেরে বন্ধু ফয়সালের সঙ্গে পরামর্শ করে আরাফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। ঘটনার দিন তারা কৌশলে ইয়াছিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে আরাফাতকে হত্যার পর মরদেহ সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে ফেলে দেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]