তানোরে ধান-চাল ক্রয় বন্ধ রেখে রাস্তা সংস্কার, ক্ষোভে ফুঁসছেন চাষিরা

আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৪:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০৪:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন
রাজশাহীর তানোরে সরকারি খাদ্যগুদামে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রেখে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করায় বিপাকে পড়েছেন মিলার ও প্রান্তিক কৃষকরা। ধান-চাল সংগ্রহের মৌসুমে এমন উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ চাষিরা।তাদের কথা চাষিদের বলী দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে কার স্বার্থে।এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল সারাদেশে সরকারি খাদ্যগুদামে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলেও তানোরে এখনো ধান-চাল কেনা শুরু হয়নি। বরং ধান-চাল ক্রয় বন্ধ রেখে খাদ্যগুদামের প্রবেশ সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সড়কটি ঠিক ধান সংগ্রহ মৌসুমে সংস্কার করায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি ঢালাই হওয়ায় কাজ শেষের পর অন্তত ১৫ দিন পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এ সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস খাদ্যগুদামে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, তারা বাকিতে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচ বহন করে ধান চাষ করেন। ধান কাটার পর ঋণ ও বকেয়া পরিশোধে দ্রুত নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।কৃষকদের দাবি, ধান সংগ্রহ মৌসুমের আগে কিংবা পরে রাস্তা সংস্কার করা হলে এমন ভোগান্তি তৈরি হতো না। পাশাপাশি অস্থায়ী ক্রয়কেন্দ্র চালু করলেও কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়তেন না।

স্থানীয় কয়েকজন চাষি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রকে সুবিধা করে দিতেই ধান সংগ্রহ বিলম্বিত করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে পরে বড় ব্যবসায়ীরা সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ পাবে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তানোর ও কামারগাঁ সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩ এপ্রিল থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চান্দুড়িয়া থেকে কামারগাঁ ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া-মালশিরা বিল এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিফুড) মোহন বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। কোনোভাবেই কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয়া হবে না।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]