নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ১৫ দিনব্যাপী রবীন্দ্র মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় আত্রাই উপজেলার পতিসরের দেবেন্দ্র মঞ্চে এ জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম রেজাউল ইসলাম রেজু।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।নওগাঁ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সহ নওগাঁ জেলার সকল এমপি মহোদয় সে সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২২ বছর আগে আমি একবার পতিসরে এসেছিলাম। আবার আপনাদের মাঝে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আত্রাইবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও আমন্ত্রণের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আত্রাই ও রাণীনগরকে পর্যায়ক্রমে পৌরসভায় উন্নীত করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, পতিসরের মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে কবিগুরুর ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। এখানকার কৃষক, নদী, মাঠ ও জনজীবনের চিত্র তাঁর সাহিত্যকর্মে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি ছিলেন গ্রামীণ সমাজ উন্নয়ন ও মানবকল্যাণেরও একজন পথিকৃৎ।
কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের কথা চিন্তা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরে কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং কৃষি গবেষণা ও আধুনিক চাষাবাদ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কৃষকের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছিলেন বলেই কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের সেই মানবিক দর্শন, কৃষিবান্ধব চিন্তা ও সংস্কৃতিচর্চা আজও আমাদের সমাজকে অনুপ্রাণিত করে। পতিসরের এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রচর্চা ছড়িয়ে দিতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত শিল্পী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, মানবতা ও গ্রামীণ সমাজভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পতিসর শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়; এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক জনপদ। এখানকার প্রকৃতি, কৃষিজীবন ও সাধারণ মানুষের জীবনধারা কবিগুরুর সাহিত্যকর্মে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পতিসরে অবস্থানকালে তিঁনি অসংখ্য কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও ছোটগল্প রচনা করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বদরবারে বাংলা সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
তারা আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন কবি ছিলেন না; তিঁনি ছিলেন একজন দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও মানবতার কবি। তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাধারা আজও সমাজকে আলোকিত করছে। বক্তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রচর্চা ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নাট্য অনুষ্ঠান। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ১৫ দিনব্যাপী রবীন্দ্র মেলায় থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন, লোকজ প্রদর্শনী ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই পতিসরের দেবেন্দ্র মঞ্চ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক বৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তি,সাংস্কৃতিককর্মী, সাহিত্যপ্রেমী ও রবীন্দ্রভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় আত্রাই উপজেলার পতিসরের দেবেন্দ্র মঞ্চে এ জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম রেজাউল ইসলাম রেজু।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।নওগাঁ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সহ নওগাঁ জেলার সকল এমপি মহোদয় সে সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২২ বছর আগে আমি একবার পতিসরে এসেছিলাম। আবার আপনাদের মাঝে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আত্রাইবাসীর আন্তরিক ভালোবাসা ও আমন্ত্রণের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আত্রাই ও রাণীনগরকে পর্যায়ক্রমে পৌরসভায় উন্নীত করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, পতিসরের মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে কবিগুরুর ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। এখানকার কৃষক, নদী, মাঠ ও জনজীবনের চিত্র তাঁর সাহিত্যকর্মে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি ছিলেন গ্রামীণ সমাজ উন্নয়ন ও মানবকল্যাণেরও একজন পথিকৃৎ।
কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের কথা চিন্তা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরে কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং কৃষি গবেষণা ও আধুনিক চাষাবাদ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কৃষকের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছিলেন বলেই কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের সেই মানবিক দর্শন, কৃষিবান্ধব চিন্তা ও সংস্কৃতিচর্চা আজও আমাদের সমাজকে অনুপ্রাণিত করে। পতিসরের এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রচর্চা ছড়িয়ে দিতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত শিল্পী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, মানবতা ও গ্রামীণ সমাজভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পতিসর শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়; এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক জনপদ। এখানকার প্রকৃতি, কৃষিজীবন ও সাধারণ মানুষের জীবনধারা কবিগুরুর সাহিত্যকর্মে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। পতিসরে অবস্থানকালে তিঁনি অসংখ্য কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও ছোটগল্প রচনা করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বদরবারে বাংলা সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
তারা আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন কবি ছিলেন না; তিঁনি ছিলেন একজন দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও মানবতার কবি। তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাধারা আজও সমাজকে আলোকিত করছে। বক্তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রচর্চা ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নাট্য অনুষ্ঠান। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ১৫ দিনব্যাপী রবীন্দ্র মেলায় থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন, লোকজ প্রদর্শনী ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই পতিসরের দেবেন্দ্র মঞ্চ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক বৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তি,সাংস্কৃতিককর্মী, সাহিত্যপ্রেমী ও রবীন্দ্রভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।