দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বড় সুখবর

আপলোড সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন
দীর্ঘ চাপ ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে আবারও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে শুরু করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দেশের রিজার্ভ এখন ৩১ বিলিয়ন ডলারের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসার কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমছে এবং ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রিজার্ভ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বেড়েছে। একইসঙ্গে রপ্তানি আয়ও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে; বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ এবং বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ ছাড় পাওয়ার কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে, অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ফলে, বাজারে অতিরিক্ত ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বাড়ার অর্থ হলো দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া। বর্তমানে যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা যায়। এতে বৈদেশিক লেনদেনে আস্থা বাড়ে এবং দেশের ক্রেডিট সক্ষমতাও উন্নত হয়।

এছাড়া, রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে ডলারের বাজারেও অস্থিরতা কমতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ ডলারের দাম বেড়ে গেলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়ে। এখন রিজার্ভ বাড়ার কারণে সেই চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তবে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং ডলারের অস্বাভাবিক চাহিদার কারণে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন সময়ে ডলার বিক্রি করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সেই পদক্ষেপগুলোর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত দুটি ধরনের রিজার্ভ হিসাব প্রকাশ করে।

গ্রস রিজার্ভ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রা ও সম্পদের হিসাব। এতে বিভিন্ন তহবিল ও স্বল্পমেয়াদি দায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যদিকে, বিপিএম-৬ রিজার্ভ হচ্ছে আইএমএফের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। এতে এমন অর্থ বাদ দেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে বিপিএম-৬ হিসাবকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]