নবুয়তের ত্রয়োদশ বছর। মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তারা এক চরম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মক্কার ‘দারুন নদওয়া’ বা পার্লামেন্ট ভবনে জড়ো হয় আবু জেহেলসহ কুরাইশদের শীর্ষ নেতারা। শয়তানও সেদিন বৃদ্ধের বেশে যোগ দিয়েছিল সেই সভায়। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়-- বনু হাশিম ছাড়া প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে শক্তিশালী যুবক নেয়া হবে, যারা একসাথে তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করবে নবী মুহাম্মদ সা.-কে। যাতে হাশেমী বংশ কারো একার ওপর রক্তপণ বা প্রতিশোধ নিতে না পারে।
যখন ষড়যন্ত্রকারীরা নবীজির ঘর ঘিরে ফেলে, ঠিক তখনই জিবরাইল (আ.) এসে মহান আল্লাহর নির্দেশ পৌঁছে দেন। নবীজি (সা.) তাঁর আমানতগুলো বুঝিয়ে দিতে হজরত আলী (রা.)-কে নিজের বিছানায় শুইয়ে দেন। এরপর এক মুঠো ধুলো নিয়ে সুরা ইয়াসিনের আয়াত তেলাওয়াত করে যখন কাফেরদের দিকে ছুড়ে দেন, তখন মহান আল্লাহর কুদরতে তারা সাময়িক অন্ধ হয়ে পড়ে। সেই ঘেরাও ভেদ করে নবীজি চলে যান তাঁর পরম বন্ধু আবু বকর (রা.)-এর বাড়িতে। শুরু হয় ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া সেই যাত্রা-- হিজরত।
কাফেরদের বিভ্রান্ত করতে নবীজি (সা.) মদিনার পথের উল্টো দিকে অর্থাৎ দক্ষিণে অবস্থিত জাবালে সওরের দিকে রওনা হন। এই পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই এতটাই কঠিন যে, একজন সুস্থ মানুষের জন্য এর চূড়ায় ওঠা আজও দুঃসাধ্য। আবু বকর (রা.) নবীজিকে সঙ্গে নিয়ে সেই পাথুরে ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠেন। চূড়ায় পৌঁছে একটি ছোট গর্ত বা গুহায় তারা আশ্রয় নেন, যা ইতিহাসে ‘গারে সওর’ নামে পরিচিত।
মক্কার খুব কাছেই গারে সওরের পাশে নির্মিত হয়েছে এক ভার্চুয়াল মিউজিয়াম। আমরা এখানে ২৫ রিয়াল জনপ্রতি খরচ করে প্রবেশ করি। এখানে গারে সওরের ঘটনাকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তোলা হয়।
নবীজি যখন মক্কা ছেড়ে যান, কুরাইশরা তখন হন্যে হয়ে নবীজিকে খুঁজছে। ১০০ উটের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তাঁর মাথার বদলে। খুঁজতে খুঁজতে একদল কাফের গুহার একদম মুখে পৌঁছে যায়। আবু বকর (রা.) ভয় পেয়ে ফিসফিস করে বললেন, হে আল্লাহর রসুল! তারা যদি নিজেদের পায়ের দিকে তাকায় তবেই আমাদের দেখে ফেলবে। নবীজি শান্ত স্বরে উত্তর দিলেন,
لا تحزن إن الله معنا (উচ্চারণ: লা তাহযান, ইন্নাল্লাহা মাআনা।) অর্থ: চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।
মহান আল্লাহর নির্দেশে গুহার মুখে মাকড়সা জাল বুনে দেয় এবং এক জোড়া কবুতর বাসা বাঁধে। কাফেররা ভাবল, এখানে যদি মানুষ থাকত তবে এই জাল অক্ষত থাকত না। ষড়যন্ত্র হেরে গেল এক অতি ক্ষুদ্র মাকড়সার জালের কাছে।
তিন দিন গুহায় কাটানোর পর গাইড আব্দুল্লাহ ইবনে উরাইকিতের সঙ্গে তারা রওনা হন মদিনার দিকে। পথে সুরাকা ইবনে মালেক তাদের ধরে ফেলার উপক্রম করলে তার ঘোড়ার পা বালিতে গেঁথে যায়। বারবার এমন হওয়ায় সুরাকা বুঝতে পারেন, এই কাফেলা ঐশ্বরিক নিরাপত্তায় আছে। তিনি ক্ষমা চেয়ে ফিরে যান। পথে উম্মে মা’বাদের তাবুতে মহানবী-এর অলৌকিক স্পর্শে মৃতপ্রায় ছাগলের ওলান দুধে পূর্ণ হওয়ার ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে কুবায় পৌঁছান আল্লাহর রসুল।
আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি সেই গারে সওরের সামনে, যেখানে চৌদ্দশ বছর আগে ইসলামের অস্তিত্ব টিকে থাকার লড়াই হয়েছিল।
অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। ‘বুস্তানুল মোস্তাদাল’ বা মদিনার প্রবেশপথে হাজারো আনসার সাহাবির বাঁধভাঙা উল্লাস আর ‘তায়াআল বাদরু আলাইনা’ ধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয় মানবতার মুক্তিদূতকে। এই হিজরতের মাধ্যমেই মক্কার জুলুমের অবসান ঘটে এবং মদিনার পবিত্র মাটিতে সূচিত হয় ইনসাফ ও শান্তির এক নতুন সোনালি অধ্যায়।
যখন ষড়যন্ত্রকারীরা নবীজির ঘর ঘিরে ফেলে, ঠিক তখনই জিবরাইল (আ.) এসে মহান আল্লাহর নির্দেশ পৌঁছে দেন। নবীজি (সা.) তাঁর আমানতগুলো বুঝিয়ে দিতে হজরত আলী (রা.)-কে নিজের বিছানায় শুইয়ে দেন। এরপর এক মুঠো ধুলো নিয়ে সুরা ইয়াসিনের আয়াত তেলাওয়াত করে যখন কাফেরদের দিকে ছুড়ে দেন, তখন মহান আল্লাহর কুদরতে তারা সাময়িক অন্ধ হয়ে পড়ে। সেই ঘেরাও ভেদ করে নবীজি চলে যান তাঁর পরম বন্ধু আবু বকর (রা.)-এর বাড়িতে। শুরু হয় ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া সেই যাত্রা-- হিজরত।
কাফেরদের বিভ্রান্ত করতে নবীজি (সা.) মদিনার পথের উল্টো দিকে অর্থাৎ দক্ষিণে অবস্থিত জাবালে সওরের দিকে রওনা হন। এই পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই এতটাই কঠিন যে, একজন সুস্থ মানুষের জন্য এর চূড়ায় ওঠা আজও দুঃসাধ্য। আবু বকর (রা.) নবীজিকে সঙ্গে নিয়ে সেই পাথুরে ঢাল বেয়ে ওপরে ওঠেন। চূড়ায় পৌঁছে একটি ছোট গর্ত বা গুহায় তারা আশ্রয় নেন, যা ইতিহাসে ‘গারে সওর’ নামে পরিচিত।
মক্কার খুব কাছেই গারে সওরের পাশে নির্মিত হয়েছে এক ভার্চুয়াল মিউজিয়াম। আমরা এখানে ২৫ রিয়াল জনপ্রতি খরচ করে প্রবেশ করি। এখানে গারে সওরের ঘটনাকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তোলা হয়।
নবীজি যখন মক্কা ছেড়ে যান, কুরাইশরা তখন হন্যে হয়ে নবীজিকে খুঁজছে। ১০০ উটের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তাঁর মাথার বদলে। খুঁজতে খুঁজতে একদল কাফের গুহার একদম মুখে পৌঁছে যায়। আবু বকর (রা.) ভয় পেয়ে ফিসফিস করে বললেন, হে আল্লাহর রসুল! তারা যদি নিজেদের পায়ের দিকে তাকায় তবেই আমাদের দেখে ফেলবে। নবীজি শান্ত স্বরে উত্তর দিলেন,
لا تحزن إن الله معنا (উচ্চারণ: লা তাহযান, ইন্নাল্লাহা মাআনা।) অর্থ: চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।
মহান আল্লাহর নির্দেশে গুহার মুখে মাকড়সা জাল বুনে দেয় এবং এক জোড়া কবুতর বাসা বাঁধে। কাফেররা ভাবল, এখানে যদি মানুষ থাকত তবে এই জাল অক্ষত থাকত না। ষড়যন্ত্র হেরে গেল এক অতি ক্ষুদ্র মাকড়সার জালের কাছে।
তিন দিন গুহায় কাটানোর পর গাইড আব্দুল্লাহ ইবনে উরাইকিতের সঙ্গে তারা রওনা হন মদিনার দিকে। পথে সুরাকা ইবনে মালেক তাদের ধরে ফেলার উপক্রম করলে তার ঘোড়ার পা বালিতে গেঁথে যায়। বারবার এমন হওয়ায় সুরাকা বুঝতে পারেন, এই কাফেলা ঐশ্বরিক নিরাপত্তায় আছে। তিনি ক্ষমা চেয়ে ফিরে যান। পথে উম্মে মা’বাদের তাবুতে মহানবী-এর অলৌকিক স্পর্শে মৃতপ্রায় ছাগলের ওলান দুধে পূর্ণ হওয়ার ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে কুবায় পৌঁছান আল্লাহর রসুল।
আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি সেই গারে সওরের সামনে, যেখানে চৌদ্দশ বছর আগে ইসলামের অস্তিত্ব টিকে থাকার লড়াই হয়েছিল।
অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। ‘বুস্তানুল মোস্তাদাল’ বা মদিনার প্রবেশপথে হাজারো আনসার সাহাবির বাঁধভাঙা উল্লাস আর ‘তায়াআল বাদরু আলাইনা’ ধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয় মানবতার মুক্তিদূতকে। এই হিজরতের মাধ্যমেই মক্কার জুলুমের অবসান ঘটে এবং মদিনার পবিত্র মাটিতে সূচিত হয় ইনসাফ ও শান্তির এক নতুন সোনালি অধ্যায়।