কেন ‘থালাপতি’ বলা হয় বিজয়কে, কীভাবে পেলেন এ নাম

আপলোড সময় : ০৫-০৫-২০২৬ ০৭:০৪:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৫-২০২৬ ০৭:০৪:২৬ অপরাহ্ন
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে অন্যতম একজন থালাপতি বিজয় (সি. জোসেফ বিজয়)। ইন্ডাস্ট্রিতে তার সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রমের গল্প নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি এমনই এক তারকা, যার বাজার বিশাল; অর্থাৎ―শুধু তার জন্যই সিনেমা নির্মাণ করা হয়। ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্ত এবং কমল হাসানের পরই কলিউডের পরবর্তী তারকা বিজয়।

সিনেমার এই দাপুটে অভিনেতা এবার প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আর প্রথমবারই অংশ নিয়ে তার দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) জয়লাভ করেছে। ১০৭ আসনে জয় পেয়েছে তার দল। অভিনেতা নিজেও পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) দুটি আসন থেকে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেছেন।

এদিকে সিনেমা ও রাজনীতি―উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে প্রমাণ করলেন অভিনেতা বিজয়। কিন্তু তার নাম ‘থালাপতি’ শব্দ ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ মনে হয়। কীভাবে এল এ নাম? এর অর্থ-ই বা কী? এ নিয়েও জানার আগ্রহ অনেকের।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিল সিনেমার ইতিহাসে দেখা যায়, কলিউডের শীর্ষ তারকাদের দেবতুল্য মনে করা হয়। তামিল সিনেমাপ্রেমীরাও তারকাদের তাদের নিজস্ব উপাধিতে সম্বোধন করতে অভ্যস্ত। তাদের বিশ্বাস, এটি তারকাদের জনগণের আরও কাছে নিয়ে আসে। এর শুরু হয়েছিল কিংবদন্তি অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ এম জি রামচন্দ্রনের (এমজিআর) হাত ধরে, যিনি ‘মাক্কাল থিলাগাম’ নামে পরিচিত হতে শুরু করেন।

এমজিআর মাক্কাল থিলাগাম হয়েছিলেন যখন:
এমজিআর এমন একজন অভিনেতা, যার তারকাখ্যাতির শিখরে পৌঁছানোর পরও জনসাধারণের সঙ্গে বেশ সম্পর্ক রয়েছে। জনগণের সঙ্গে এই সুসম্পর্কই তাকে মানুষের ‘মাক্কাল থিলাগাম’ করে তুলেছিল। তারপরই শিবাজি গণেশন থেকে শুরু করে অজিত ও বিজয় পর্যন্ত সব অভিনেতাকে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই উপাধি দিয়েছেন।

বিজয় যখন ইলাইয়া থালাপতি:
১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভেত্রি’ নামক একটি সিনেমার মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন বিজয়। শিশুশিল্পী হিসেবে কয়েকটি সিনেমায় কাজের পর রজনীকান্তের ‘নান সিগাপ্পু মানিথান’ সিনেমায় কাজ করেন। ১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থেরপু’ নামক সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে এ অভিনেতা তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। অবশ্য তার বাবাও একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। নায়ক হিসেবে সাফল্য পেতে অবশ্য কিছুটা সময় লেগেছিল বিজয়ের। আর নায়ক হিসেবে অভিষেকের দুই বছর পর ‘রাসিগান’ সিনেমা করেন। সিনেমাটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয় তখন। তবে এটিই ছিল তার অভিনীত প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সফল কাজ। এর মাধ্যমেই ‘ইলাইয়া থালাপতি’ হিসেবে ক্যারিয়াল শুরু হয় বিজয়ের।

‘রাসিগান’ ছিল প্রথম সিনেমা, এতে ইলাইয়া থালাপতি উপাধি দেয়া হয়েছিল বিজয়কে। এর অর্থ তরুণ সেনাপতি। পরবর্তী সিনেমাগুলোয় ‘ইলাইয়া থালাপতি’ নামে পরিচিত পেতে থাকেন তিনি এবং ভক্তরাও গ্রহণ করে নেন তা।

ইলাইয়া থালাপতি থেকে থালাপতি:
তিন দশক ধরে অভিনেতা বিজয়কে ‘ইলাইয়া থালাপতি’ নামে ডাকা হতো। এই সময় অবশ্য ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন। তার সাফল্য ছিল অভাবনীয়। ৪৩ বছর বয়সেও তাকে ‘ইলাইয়া থালাপতি’ নামে ডাকা হতো।

২০১৭ সালে নির্মাতা অ্যাটলি ও বিজয় উপাধি পরিবর্তন করে ‘থালাপতি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এর অর্থ সেনাপতি বা নেতা। ‘মার্শাল’র ফার্স্ট-লুক পোস্টার প্রকাশ হলে তাতে থালাপতি হিসেবেই উল্লেখ করা হয় বিজয়কে। আর এই পরিবর্তন দেখে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং তা উদযাপন করেন।

বছরের পর বছর কাজের মাধ্যমে একজন তারকা হয়ে ওঠেন বিজয় এবং তাকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন তার ভক্তরা। নিজের লাজুক ভাবমূর্তি ত্যাগ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজের চমৎকার বক্তব্য মুগ্ধ করে জনগণকে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]