নামাজে সাহাবিদের মনোযোগ যেমন ছিল

আপলোড সময় : ০৫-০৫-২০২৬ ০৪:৫৫:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৫-২০২৬ ০৪:৫৫:০৯ অপরাহ্ন
রাসুলুল্লাহর (সা.) পরে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন সাহাবায়ে কেরাম। কেয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষের জন্য তাঁরা সত্যের মাপকাঠি, হেদায়াতের আলোকবর্তিকা। দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্য নবীজির (সা.) সঙ্গী হিসেবে আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামকেই নির্বাচন করেছেন। তাদের প্রতি নিজের রাজি-খুশির কথা স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন।

সাহাবায়ে কেরামের ইমান ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ, মজবুত ও পরিপূর্ণ। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির আশায় সাহাবিরা বেশির ভাগ সময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। জান্নাত লাভ, আল্লাহর প্রিয় হওয়াই ছিল তাঁদের অভিপ্রায়। একমাত্র আল্লাহর জন্যই তারা ইবাদত করতেন। কোরআনে আল্লাহ বলেন, আপনি তাদের দেখবেন কখনো রুকুতে, কখনো সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত। তাদের আলামত তাদের চেহারায় পরিস্ফুট, সিজদার ফলে। (সুরা ফাতহ: ২৯)

নামাজ, রোজা, দান-সদকা, জিহাদসহ দ্বীন পালনের সব ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম উম্মতের জন্য আদর্শ। নবীজি (সা.) সাহাবিদের নেক কাজ দেখলে আনন্দিত হতেন, ভুলত্রুটি দেখলে সহাস্যে শুধরে দিতেন। সাহাবিরা নবীজির (সা.) কাছে নামাজ আদায়ের পূর্ণ স্বাদ ও তৃপ্তি লাভের উপায় শিখেছিলেন। ঘরে-বাইরে, যুদ্ধের ময়দান সর্বক্ষেত্রে এর প্রমাণ দিয়েছেন তাঁরা।

এখানে আমরা সাহাবিদের নামাজকে গুরুত্ব দেওয়া ও নামাজে তাদের মনোযোগের কিছু অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি।

নামাজে ব্যঘাত ঘটায় বাগান দান করে দিলেন
একবার সাহাবি আবু তালহা আনসারি (রা.) তার একটি বাগানে নামাজ আদায় করছিলেন। তখন একটি ছোট পাখি ঝোপঝাঁড় থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছিল। দৃশ্যটি তার ভালো লাগায় নামাজের মধ্যেই মনোযোগ কিছুটা সেদিকে চলে যায়। পরক্ষণেই তিনি সচেতন হলেন এবং দেখলেন নামাজ কত রাকাত পড়েছেন তা আর স্মরণে নেই। তিনি ভাবলেন নিজের বাগানই তাকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে, তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে মনোযোগ হারিয়ে ফেললেন এই বাগানের কারণেই। নামাজ শেষ করে তিনি রাসুলুল্লাহর (সা.) খেদমতে হাজির হয়ে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! যে সম্পদ আমার নামাজের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে, তা আমি আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিচ্ছি। আপনার পছন্দ অনুযায়ী তা ব্যয় করুন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২১৪)

তীরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েও নামাজ ভাঙলেন না
নামাজ জাতুর-রিকা যুদ্ধাভিযানে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক মুহাজির ও এক আনসারি সাহাবিকে পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। রাত গভীর হলে আনসারি সাহাবি নামাজে দাঁড়ান এবং মুহাজির সাহাবি বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এমন সময় এক মুশরিক সেখানে এসে পাহারা দেওয়া আনসারি সাহাবিকে লক্ষ্য করে একের পর এক তিনটি তীর নিক্ষেপ করে। প্রতিটি তীর তার শরীরে বিদ্ধ হয়ে রক্ত প্রবাহিত হলেও তিনি নামাজ ভাঙেননি। সুরা তেলাওয়াত শেষ করে রুকু-সেজদার মাধ্যমে নামাজ শেষ করে তিনি তাঁর সঙ্গীকে জাগান। মুহাজির সাহাবি অবাক হয়ে এত রক্তক্ষরণের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি নামাজে এমন একটি সুরা (সুরা কাহাফ) তেলাওয়াত করছিলাম যা শেষ না করে নামাজ শেষ করা আমি পছন্দ করিনি। (সুনানে আবু দাউদ: ১৯৮)

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তেন আনাস (রা.)
আনাস (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহর (সা.) দীর্ঘ ১০ বছরের খাদেম। ইবাদত ও নামাজের ক্ষেত্রে তিনি নবীজির (সা.) আদর্শকে এতটাই নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতেন যে, তার নামাজ ছিল রাসুলের নামাজের প্রতিচ্ছবি। আবু হোরায়রা (রা.) তার প্রশংসা করে বলেন, আমার দেখা অনুযায়ী আনাসের নামাজ রাসুলের (সা.) নামাজের সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৫/৯৫; তাহযিবুত তাহযিব: ১/৩৪৩)

ইবাদতে তার একাগ্রতা ও ধৈর্য ছিল বিস্ময়কর। রাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার কারণে অনেক সময় তার পা ফুলে যেত। রাতে তার পরিবারের সদস্যরাও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তো। তিনি পুরো রাতকে তিন ভাগে ভাগ করে নিয়েছিলেন। প্রথমাংশে তিনি নিজে নামাজ পড়তেন। এরপর তাঁর স্ত্রীকে জাগিয়ে দিতেন দ্বিতীয়াংশে নামাজ পড়ার জন্য। তারপর তার স্ত্রী মেয়েকে জাগিয়ে দিতেন শেষাংশে নামাজ পড়ার জন্য। এভাবেই তার ঘর সারা রাত ইবাদত ও আল্লাহর জিকিরে সজীব থাকত। (কিতাবুজ জুহুদ: ১৭১)

নামাজে ইবনে মাসউদের (রা.) কোরআন তেলাওয়াত
ওমর (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলের (সা.) সঙ্গে আবু বকর (রা.) ও আমি হাঁটছিলাম। দেখলাম ইবনে মাসউদ (রা.) মসজিদে নামাজ পড়ছেন। তার সুমধুর কোরআন তিলাওয়াত শুনে রাসুল (সা.) বললেন, ‘কোরআন যেমন সবুজ-সতেজ অবতীর্ণ হয়েছে, কেউ যদি তেমন কোরআন পাঠ করে আনন্দিত হতে চায়, তাহলে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের (ইবনে মাসউদ) মতো কোরআন পাঠ করে। (সহিহ ইবনে খুজায়মা: ২/১৮৬)

আমাদের সময়ে মুসলমানদের মধ্যে অনেকেই নামাজ পড়ে[ন না, যারা নামাজ পড়েন, তাদেরও নামাজে বেশ অমনোযোগী দেখা যায়। সাহাবিদের অনুসরণ করে আমরা যেন নিজেদের নামাজকে সজীব ও জীবন্ত বানানোর চেষ্টা করি। ইখলাস ও খুশু-খুযুর সঙ্গে নামাজ আদায় করি। আল্লাহ তাআলা বলেন, সফলকাম ওই সব মুমিন, যারা তাদের নামাজে খুশু-খুজু (পূর্ণ মনোযোগ) অবলম্বন করে। (সুরা মুমিনুন : ১-২)

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]