ড্রেসিংরুমে ধূমপান করে আলোচিত ছিলেন যেসব তারকা

আপলোড সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০৪:২৬:৪৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০৪:২৬:৪৭ অপরাহ্ন

আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের ড্রেসিংরুমে ধূমপান করে তুমুল সমালোচনার ‍মুখে পড়েছেন রিয়ান পরাগ। ম্যাচের মাঝে তার ই-সিগারেট (ভ্যাপিং) পানের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। যে কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়েছেন পরাগ। যদিও ক্রীড়াঙ্গনে ধূমপান করে আলোচিত হওয়ার নজির এবারই প্রথম নয়, তবে তখন এত নিন্দিত হতে হয়নি অ্যাথলেটদের!

এক প্রতিবেদনে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ লিখেছে, ক্রিকেটে এক সময় বিপুল বিনিয়োগ করত সিগারেট কোম্পানিগুলো। কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা স্টেডিয়ামের বিলবোর্ডেও শোভা পেত। প্রকাশ্যে ধূমপান করা খেলোয়াড় বিবেচিত হতেন অধিক পৌরুষ ও রহস্যময় হিসেবে। আবার কাউবয় টুপি, আধবোজা ট্যারা চোখ আর চেপে রাখা ঠোঁট থেকে ঝুলন্ত সিগারেট ছিল গাম্ভীর্যের প্রতীক। এ ছাড়া সিগারেটকে চাপ কমানোর উপায় মনে করা হতো, যে কারণে শীর্ষ খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে ধূমপান করবেন– এটা ছিল গ্রহণযোগ্য বিষয়।

১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ের পর কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত যখন লর্ডসের ব্যালকনিতে কিংবদন্তি অধিনায়ক কপিল দেবের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন, তখন তা নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। পরে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তামাক কোম্পানিগুলোই উপমহাদেশে খেলাটির প্রসারে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল এবং ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে ভারতের বর্তমান উত্থানের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য ইন্ডিয়ান টোব্যাকো কোম্পানি একটি রেকর্ড-ভাঙা টাইটেল স্পনসরশিপ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর সঙ্গে বাড়তি হিসেবে পাওনা ছিল ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রচারণামূলক অভিযান। ক্রমান্বয়ে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে এবং ভারতে পুরোদমে শুরু হয় ক্রীড়ার বাণিজ্যিকীকরণের যুগ। এরই মাঝে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছিল– স্বাস্থ্যকর খেলাধুলা কি তবে অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে?

কেবল ক্রিকেট-ই নয়, অন্যান্য খেলায়ও একই চিত্র ছিল। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ স্পন্সর করেছিল দুটি সিগারেট কোম্পানি। ফিফা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাকবিরোধী প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার আগে ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমও প্রায় বারের মতো ধোঁয়ায় ভরা থাকত। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার সক্রেটিস ধূমপায়ী হিসেবে সবচেয়ে আলোচিতদের একজন ছিলেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ভূমিকা ছিল তার আদর্শ বিপ্লবী চে গুয়েবারা ও ফিদেল কাস্ত্রোর মতো ব্যক্তিত্ব। একইভাবে নেদারল্যান্ডস ফুটবল গ্রেট ইয়োহান ক্রুইফও ম্যাচের বিরতিতে ধূমপান করতেন। যা তার বিদ্রোহী ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে।

ক্রিকেটে একই পথের পথিক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিন জাদুকর শেন ওয়ার্ন। তিনি আত্মজীবনী ‘মাই স্পিন’ গ্রন্থে লিখেছেন, সিগারেটের স্পন্সরশিপের সময় অস্ট্রেলিয়া দলের অর্ধেক খেলোয়াড়ই নিয়মিত ধূমপান করতেন। ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, ট্রেন, এমনকি বিমানেও ধূমপান ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। ভারতীয় স্পিনার ভেঙ্কটাপতি রাজু-ও ইংল্যান্ড সফরে বিমানের পেছনে গিয়ে ধূমপায়ীদের সঙ্গে যোগ দিতেন।

ওয়ার্ন তার এক মজার অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করেন, ‘চেইন-স্মোকার ছিলেন রাজু। তবে অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে আতঙ্কিত হতো, তাই আমরা তাকে একগুচ্ছ লেবু দিয়ে এক ঘণ্টার জন্য ঘুমিয়ে পড়তে বললাম। সত্যি বলতে এতে কাজ হয়েছিল কি না আমি নিশ্চিত নই। সে বেশ কয়েকদিন ধরে মুখ গোমড়া মুখে ছিল।’

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]