চলন্ত ট্রেন থেকে পড়লো শিশু, বাবাও দিলেন ঝাঁপ– উপর দিয়ে গেল ৮ বগি

আপলোড সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ০৯:৪৭:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ০৯:৪৭:১৪ অপরাহ্ন
‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ প্রবাদের এই চিরন্তন সত্যের যেন বাস্তব প্রমাণ মিলল ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে। চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় পড়ে যায় এক বছর বয়সি এক শিশু। সন্তানকে বাঁচাতে বাবাও চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন। তাদের ওপর দিয়ে একে একে ট্রেনের আটটি বগি চলে গেলেও অবিশ্বাস্যভাবে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরেছেন পিতা-পুত্র।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা অভিমুখী তিতাস কমিউটার ট্রেনে এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে। বেঁচে যাওয়া ওই পরিবারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ভৈরবে এসেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রাবিরতির সময় ওই দম্পতি সন্তানসহ ট্রেন থেকে নামতে পারেননি। ট্রেনটি ছেড়ে দেয়ার পরপরই তাড়াহুড়ো করে চলন্ত ট্রেন থেকে এক বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে নামার চেষ্টা করেন বাবা। এ সময় হাত ফসকে শিশুটি প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের ফাঁক দিয়ে নিচে পড়ে যায়।

সন্তানকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে বাবাও লাফ দিয়ে নিচে পড়েন এবং ছেলেকে বুকে জড়িয়ে প্ল্যাটফর্মের দেয়ালের সাথে সেঁটে শুয়ে থাকেন। তাদের ওপর দিয়ে আটটি বগি চলে গেলেও দুজনেই অক্ষত থাকেন। এ সময় স্থানীয়রা শিশুটির মাকে ট্রেন থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।
 
তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারম্যান ফালু মিয়া বলেন, ‘অসতর্ক অবস্থায় চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে শিশুটি নিচে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তার বাবাও লাফ দেন এবং ছেলেকে বুকে আগলে লাইন ও প্ল্যাটফর্মের ওয়ালের সাথে সেঁটে থাকেন। তাদের ওপর দিয়ে আটটি বগি চলে গেলেও তারা অক্ষত ছিলেন।’
 
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইয়িদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পিতা-পুত্রের ওপর দিয়ে আটটি বগি পার হলেও তারা অক্ষত থাকাটা আল্লাহর অসীম দয়া ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করার সময় যাত্রীদের অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।’
 
এদিকে একই দিন ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এগারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে শাহিন মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের এক হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি কুলিয়ারচরের চারার বন এলাকার রমজান মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]