গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার, এক সদস্য আটক

আপলোড সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ০১:২৫:০৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ০১:২৫:০৮ অপরাহ্ন
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একই পরিবারের বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় নিহতের আরেক ছেলে জীবিত অবস্থায় আটক থাকায় পুরো ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ৫৫ বছর বয়সী দর্জি সোহেল হোসেন এবং তার ছেলে ১৭ বছর বয়সী সাকিব হোসেন দর্জি। সোহেল হোসেন উত্তর বনমালা গ্রামের মোস্তফা দর্জির ছেলে। সাকিব ঢাকার উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে সোহান দর্জি (৩০) নামের আরেক ছেলেকে, যিনি নিহত সোহেলের বড় ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহেলের স্ত্রী প্রায় এক বছর আগে মারা গেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল হোসেন তার দুই ছেলে সাকিব ও সোহানকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে সাকিবের মরদেহ দেখতে পান এবং পাশের রেললাইনের পাশে পাওয়া যায় সোহেলের মরদেহ।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সাকিবের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর কাটা ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিকভাবে মাদক নিয়ে বিরোধ চলছিল। তবে সাকিবের শরীরের জখমের ধরনকে তারা সাধারণ পারিবারিক সহিংসতার চেয়ে ভিন্ন বলে মনে করছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাকিবের মাথার পেছনে গভীর আঘাত, ডান হাতের কব্জি ও বাম পায়ের অংশে সুস্পষ্টভাবে কাটা চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোহেলের মরদেহ রেললাইনের পাশে পাওয়া যায়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি হত্যার পর ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে, এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

একই ঘরে থাকা সত্ত্বেও সোহান দর্জির অক্ষত থাকা এবং তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়ায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা তার ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই জীবিত সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের এ ঘটনায় পারিবারিক কলহ, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং পরিকল্পিত হত্যার সম্ভাবনা, সবকিছুই সামনে আসছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে এই রহস্যের প্রকৃত কারণ উদঘাটন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]