বাবা হওয়ার পথে বাধা হতে পারে মানসিক চাপ!

আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০১:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ০১:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন
চিকিৎসকের চেম্বারে বন্ধ্যাত্ব নিয়ে আলোচনা করতে এলে পুরুষদের মুখে সাধারণত একটি কথাই শোনা যায়— "আমি যে এই সমস্যার কারণ হতে পারি, সেটা আগে জানতামই না। ডাক্তারবাবু আমাকে সাহায্য করুন।"

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দম্পতিরা যখন সন্তানহীনতায় ভোগেন, তখন আগে মহিলাদেরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানে সবকিছু স্বাভাবিক ধরা পড়লে তবেই পুরুষরা নিজের চেক-আপ করানোর কথা ভাবেন। অনেক পুরুষই জানেন না যে, যৌন ক্ষমতা বা পারফরম্যান্স ভাল থাকার মানেই এই নয় যে তাঁর স্পার্ম বা শুক্রাণুও সম্পূর্ণ সুস্থ। এখানেই লুকিয়ে থাকে আসল রহস্য।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কি শুক্রাণুর ক্ষতি করে?
আমরা জানি যে মানসিক চাপ আমাদের মেজাজ, যৌন ইচ্ছা এবং শারীরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, প্রতিনিয়ত কাজের চাপ বা মানসিক অশান্তি সরাসরি পুরুষদের শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও শুধু স্ট্রেস থেকেই বন্ধ্যাত্ব হয় না, তবে এটি সমস্যার একটি অন্যতম বড় অনুষঙ্গ।

শরীরে স্ট্রেসের প্রভাব: শুধুই কি মনের রোগ?
অনেকে মনে করেন স্ট্রেস বা চাপ কেবল মনের ব্যাপার। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস শরীরের হরমোন ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেয়।

হরমোনের তারতম্য: যখনই আমরা চাপে থাকি, শরীর কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে। এটি সাময়িকভাবে আমাদের লড়তে সাহায্য করলেও, দীর্ঘমেয়াদী চাপে শরীরের বড় মাসুল দিতে হয়। এর ফলে ঘুম কমে যায়, ওজন বাড়ে এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে শুরু করে।

তিন মাসের চক্র: শুক্রাণু তৈরি হতে এবং পরিপক্ক হতে প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তাই হুট করে হওয়া কোনও স্ট্রেসের চেয়ে দীর্ঘ কয়েক মাসের 'বার্ন আউট' বা অনিদ্রা শুক্রাণুর মানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তাঁদের শুক্রাণুর সংখ্যা (Sperm Count) এবং গতিশীলতা (Motility) অন্যদের তুলনায় অনেক কম হয়। ১২০০ জন পুরুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ মাত্রার স্ট্রেস সরাসরি স্পার্ম কনসেন্ট্রেশন কমিয়ে দেয়।

স্ট্রেস ও লাইফস্টাইলের চক্র
মানসিক চাপে থাকলে মানুষ প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে ঝুঁকে পড়ে। কম ঘুমোনো, শরীরচর্চা না করা, অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপানে আসক্তি এবং ওজন বৃদ্ধি—এই সবকিছুই মিলেমিশে শুক্রাণুর স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত করে। উর্বরতা বা ফার্টিলিটি কোনও একক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না; এটি শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রতিফলন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যৌন ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলেও শুক্রাণুতে সমস্যা থাকতে পারে। সাধারণ নিয়ম হল, যদি কোনও দম্পতি (মহিলার বয়স ৩৫-এর কম হলে) এক বছর চেষ্টা করার পরও সফল না হন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মহিলার বয়স ৩৫-এর বেশি হলে এই সময়সীমা ৬ মাস। তবে সমস্যা হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

আগে কোনও অণ্ডকোষের সমস্যা থাকলে, কেমোথেরাপি বা বড় কোনও সার্জারি হয়ে থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

সিমেন অ্যানালিসিস (Semen Analysis): শুক্রাণুর সংখ্যা, আকার ও গতিবিধি বোঝার জন্য এটিই প্রথম এবং প্রধান পরীক্ষা।

সুস্থ থাকতে কী করবেন?
শুধুমাত্র ‘রিলাক্স’ করুন বললেই স্ট্রেস চলে যায় না। কিন্তু কিছু অভ্যাস বদলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব:

১. পর্যাপ্ত ঘুম: শুক্রাণু তৈরির জন্য টেস্টোস্টেরন হরমোন অপরিহার্য, যা ঘুমের সময় বেশি উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।
২. সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি: গবেষকদের মতে, স্ট্রেসের সময় অন্যদের 'বেবি শাওয়ার' বা 'জেন্ডার রিভিল' পোস্ট দেখা মানসিক উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। নিজেকে হীনম্মন্য মনে হতে পারে। তাই এই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন।
৩. শরীরচর্চা: খুব ভারী ব্যায়াম না করলেও নিয়মিত সচল থাকা প্রয়োজন। এটি কর্টিসলের মাত্রা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৪. সঠিক খাদ্যাভ্যাস: প্রসেসড ফুড বা ফাস্ট ফুড এড়িয়ে দানাশস্য, ফল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান। অতিরিক্ত ওজন শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা শুক্রাণু উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে।

পুরুষের ফার্টিলিটি বা উর্বরতা তাঁর শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার আয়না। মানসিক চাপকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, শুক্রাণু উৎপাদন শুধু একটি জৈবিক প্রক্রিয়া নয়, এটি আপনার সুস্থ জীবনধারার মাপকাঠি। 

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]