ইরান-আমেরিকা আলোচনায় বড় বাধা মার্কিন অবরোধ!

আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৮:১৩:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৮:১৩:৩১ অপরাহ্ন
আরব দুনিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে যে কূটনৈতিক দৌত্য শুরু হয়েছিল, তা বড়সড় ধাক্কা খেল। দুই দেশের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা যাতে সফল হয়, তার জন্য এবার আসরে নেমেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের ‘ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে পরিচিত মুনির সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করে সতর্ক করেছেন। তাঁর সাফ কথা, ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধই আপাতত দুই দেশের শান্তি আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফোন কলের সময় পাক সেনাপ্রধান ট্রাম্পকে জানান, ইসলামাবাদে হতে চলা দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার সফল পরিণতি চাইলে এই অবরোধ অবিলম্বে শিথিল করা প্রয়োজন। পাক নিরাপত্তা সূত্রে খবর, ট্রাম্প নাকি মুনিরের এই পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে এই আলোচনা এমন এক সন্ধিক্ষণে হয়েছে, যখন শান্তি প্রক্রিয়া কার্যত ঝুলে পড়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। এর ফলে আরব দুনিয়ায় প্রায় দু’মাস ধরে চলতে থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে তৈরি হওয়া সম্ভাবনা কার্যত ফিকে হয়ে এসেছে।

মুনির সম্প্রতি তিন দিনের ইরান সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিদেশমন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের দাবি, উত্তেজনা প্রশমন করতেই আসিম মুনিরের এই উদ্যোগ।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ইসলামাবাদে গিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাতের মাঝে এটাই ছিল দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলাপচারিতা। কিন্তু সেই বৈঠক কোনও ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে গত সপ্তাহে। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ আটক করে। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এর পাল্টা হিসেবে তেহরানের সামরিক নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর পাকিস্তানি প্রতিপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার ঠিক আগেই এই ধরনের পদক্ষেপ আমেরিকার ‘অসৎ উদ্দেশ্যের’ পরিচয় দেয়।

তেহরানের সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আমেরিকা একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে অযৌক্তিক দাবি এবং সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মহম্মদ রেজা আরেফ ওয়াশিংটনের এই নীতিকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, একদিকে শান্তি আলোচনার আহ্বান, অন্যদিকে বন্দরের ওপর টানা নৌ-অবরোধ—এ দু’টি একসঙ্গে চলতে পারে না।

এদিকে হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, যিনি গত সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি ফের ইসলামাবাদ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাকিস্তানের তরফেও রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবশেষে আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য। রবিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি আমেরিকার প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে তিনি ইরানের অসামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেবেন। তিনি বলেছেন, ইরান রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।

আলোচনা চললেও, মূল ইস্যুগুলো নিয়ে দু’দেশের মধ্যে এখনও বিস্তর ফারাক। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হেজবোল্লার মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে মদত দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ - এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনও অটল অবস্থানে দুই পক্ষ। এখন দেখার, পাক সেনাপ্রধানের এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত কোনও বরফ গলাতে পারে কি না। 

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]