ইরান যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্যের মুখে ৩ কোটির বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

আপলোড সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ০২:১০:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ০২:১০:১৩ অপরাহ্ন
ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহের মধ্যে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলেছে, জ্বালানি, খাদ্য ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত এক ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ব।
 
দারিদ্র্য মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের অগ্রগতি পিছিয়ে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব অঞ্চলভেদে অসমভাবে অনুভূত হবে।
 
ইউএনডিপি’র প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, ‘এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নের বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া। যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতিকে অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা দিয়েছে।’
 
তিনি বলেন, আপনি এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব দেখতে পাবেন, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেখানে মানুষকে আবার দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক। যাদের দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, তারা প্রায়শই সেইসব মানুষ, যারা একসময় দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং এখন আবার দারিদ্র্যের কবলে পড়ছে। 

তেহরানে প্রথম মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার পর থেকে গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সার সরবরাহ এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহনের ওপর যে ধারাবাহিক প্রভাব পড়ছে, তার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি ‘খাদ্য নিরাপত্তা টাইমবোমা’ তৈরি হয়ে গেছে। 
 
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই শান্তি বজায় রাখা গেলেও, এই সংঘাতের ‘ক্ষতচিহ্ন’ বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
 
আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে বিশ্ব নেতারা ওয়াশিংটনে সমবেত হওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউএনডিপি বলেছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
 
তারা বলছে, উন্নয়নশীল দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক নগদ সহায়তা প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, যাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে যাওয়া মানুষদের সুরক্ষা দেয়া যায়।
 
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন ব্যাংকগুলো এই আর্থিক সহায়তা দিতে পারে উল্লেখ করে ডি ক্রু বলেন, ‘মানুষকে আবার দারিদ্র্যে পড়া থেকে রক্ষা করতে স্বল্পমেয়াদি নগদ সহায়তা দেয়ার ইতিবাচক অর্থনৈতিক ফল রয়েছে। বিকল্প হিসেবে সাময়িক বিদ্যুৎ বা রান্নার গ্যাসের জন্য ভর্তুকি বা ভাউচার দেয়া যেতে পারে।’
 
তবে ইউএসডিপি সতর্ক করে বলেছে, সার্বজনীন ভর্তুকি দেয়া উচিত নয়, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধনী পরিবারগুলোও সুবিধা পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি আর্থিকভাবে টেকসই নয়।
 
যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে– যেখানে ছয় সপ্তাহ ধরে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে এবং আট মাস ধরে উচ্চ ব্যয় অব্যাহত থাকবে­– বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। 

প্রতিবেদনটিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিদিন মাথাপিছু ৮.৩০ ডলারের কম আয়কে নির্দেশ করে।
 
বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বৃদ্ধির অর্ধেকই কেন্দ্রীভূত হবে ৩৭টি নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশের মধ্যে, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থিত। 
 
ইউএনডিপি জানিয়েছে, ধনী দেশগুলো যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও, বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর অবস্থান শুরুতেই দুর্বল ছিল এবং তারা আগে থেকেই গুরুতর আর্থিক সংকটে ভুগছিল। 
 
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ঋণের চাপ ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তাদের সহায়তা ব্যয় কমাচ্ছে।
 
গত সপ্তাহে প্রকাশিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সংস্থাটির উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সদস্য দেশগুলো ২০২৫ সালের জন্য সহায়তা ব্যয় ১৭৪.৩ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কম।
 
ডি ক্রু বলেন, ধনী দেশগুলোর ওপর চাপ তিনি বুঝতে পারেন, তবে সহায়তা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব থাকবে। তার ভাষ্য, সামরিক পরিভাষায় বলতে গেলে, উন্নয়নে বিনিয়োগ হলো চূড়ান্ত প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক বা প্রতিরোধমূলক আক্রমণ। আপনি কেন প্রতিরোধমূলক আক্রমণ করেন? একটি সংঘাত শুরু হওয়া এড়ানোর জন্য। উন্নয়ন ঠিক সেটাই করে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি দারিদ্র্য বিমোচনে, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও তার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন, তবে এই উপাদানগুলোই বিশ্বকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]