ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়া রোগী বাড়ছে, সাত দিনে ভর্তি হয়েছে ৪৬৮ জন রোগী

আপলোড সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ০৯:৩৪:৪২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ০৯:৩৪:৪২ অপরাহ্ন
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুরাই বেশি। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত চিকিৎসা নিচ্ছে ১১ জন শিশু।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যরা। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। এরমধ্যে প্রসুতিদের জন্য কয়েকটি শয্যা আর জরুরি প্রয়োজনের ৬ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। ওয়ার্ডে ডায়রিয়া রোগীদের ঠাঁই না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রির পর্যন্ত ৪৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ছিল ১০১ জন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছে ১১ জন শিশু। ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে ছিল ১ এপ্রিল ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়, এরমধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ছিল ১৯ জন, ২ এপ্রিল ৬৭ জন রোগীর মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ছিল ১৪ জন, ৩ এপ্রিল ৭৫ জনের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৫ জন, ৪ এপ্রিল ৫৩ জনের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৫ জন, ৫ এপ্রিল ৭৮ জনের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৩ জন, ৬ এপ্রিল ৭২ জনের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৫ জন এবং ৭ এপ্রিল ৫৫ জনের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১০ জন শিশু রোগী ছিল।

কয়েকজন পল্লিচিকিৎসক ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, উপজেলার গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া। আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে না এসে গ্রামীণ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

উপজেলার মহদিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোকছেদ আলী বলেন, প্রায় ঘরে ঘরেই এখন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুরাই রেশি।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বেডের অভাবে অনেক রোগী হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার হামিদুপুর ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ৮ বছরের শিশু জোয়াইরিয়া পাতলা পায়খানা, পেট ব্যাথা ও বমি নিয়ে বৃহস্পতিবার বার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মা আনিছা বেগম জানান, হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে শুয়ে তার মেয়ের ডায়রিয়ার চিকিৎসা চলছে। এতে কিছুটা কষ্ট হলেও ডাক্তার ও নার্সদের সেবায় তিনি খুশি।

এভাবে মেঝেতে ডায়রিয়ার চিকিৎসা চলছে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের চককবীর গ্রামের দেড় বছরের শিশু টুম্পা মনির। টুম্পার পিতা দ্বীজেন্দ্রনাথ জানান বুধবার (৮ এপ্রিল) তার মেয়ে ঘন ঘন পাতলা পায়না আর বমি করায় তিনি হাসপাতালে এনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডে বেড না থাকায় মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা চলছে। এখন তার মেয়ে অনেকটাই সুস্থ্য। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল নাগাদ চলে যাবেন এমনটাই বলেছেন ডাক্তার।

গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত থেকে উপজেলার পৌর এলাকার কানাহার গ্রামের সাইফুল ইসলামের আড়াই বছরের মেছে সোনাইরা বমি এবং পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বাড়িতে স্যালাইন খেয়ে ভালো সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। ভালো না হওয়া পরদিন বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এখানে বেড নেই। তাই মেঝেতের রেখেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন প্রায় সুস্থ্য ডাক্তার বললেই মেয়েকে নিয়ে বাড়ী ফিরবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. নূর ই আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, আবহাওয়া জনিত কারণে সবচেয়ে বেশি শুশিরা পেটের ব্যথা, পাতলা পায়না ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে যেসব ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে দু-একদিনের মধ্যে সুস্থ করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ায় অধিক হারে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি বলেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও এখানে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে গড়ে ৮০ জন। বাড়তি রোগীর জন্য কোনো শয্যা বরাদ্দ না থাকায় রোগীরকে সুস্থ করার স্বার্থে মেঝেতে রেখেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীরাও দু-একদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরতে পারছেন। এছাড়াও রয়েছে চিকিৎসক সংকট। স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক এবং নার্সদের আপ্রাণ চেষ্টায় রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে -এটাই বড় কথা। হাসপাতালে রোগীদের খাবার এবং আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]