রাণীশংকৈলে পিআইওকে মারধর মামলার প্রধান আসামি গণনঅধিকর পরিষদ নেতা মামুন গ্রেপ্তার

আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ১১:৩০:৩০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ১১:৩০:৩০ পূর্বাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বহুল আলোচিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূর নবী সরকারকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি গণঅধিকার পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশীদ মামুনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুর শহরের সুইহারি এলাকার ড্রাইভার পাড়া থেকে রাণীশংকৈল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশও সহযোগিতা করে। গ্রেপ্তারের পর রাতেই তাকে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে মামুনুর রশীদ মামুন, উপজেলা শাখার সভাপতি সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেনসহ ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত পিআইও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় রাতে অফিস খোলা রাখা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে পিআইও নূর নবী সরকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং তাকে কিল-ঘুষি মারধর করে। হামলার সময় অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পিআইও নূর নবী সরকার বাদী হয়ে মামুন, সোহরাব, জাফরসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে রাণীশংকৈল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই রাতে মামলার ৫ নম্বর আসামি জিয়াউর রহমানকে পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।ভুক্তভোগী নূর নবী সরকার অভিযোগ করে বলেন, “মামুন পূর্ব থেকেই আমার কাছে বিভিন্ন সময় অবৈধ সুবিধা দাবি করে আসছিল। আমি তাতে সাড়া না দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে সে তার সহযোগীদের নিয়ে অফিসে এসে হামলা চালায়। আমার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে এবং অন্যরা মারধর করে অফিস তছনছ করে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। ৮ এপ্রিল ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে রাণীশংকৈল অফিসার্স ক্লাবও পৃথক বিবৃতিতে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, মামলার আসামি হিসেবে সাংবাদিক জিয়াউর রহমান জিয়া ও রাকীব ফেরদৌসের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহমতুল্লাহ রনি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান আসামি মামুনুর রশীদ মামুনকে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]