৩০-এর পর এই এক ভিটামিনেই কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি!

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০২:৪৯:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০২:৪৯:১৬ অপরাহ্ন
আজ আপনি যে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাচ্ছেন, তার প্রভাব কি পড়তে পারে ২০-৩০ বছর পরে আপনার মস্তিষ্কে? নতুন একটি গবেষণা বলছে—হয়তো পারে।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের মধ্যবয়সে রক্তে ভিটামিন D-এর মাত্রা বেশি থাকে, তাঁদের পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের মাত্রা কম হতে পারে। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Neurology Open Access-এ।

তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন — এই ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও, এটি সরাসরি প্রমাণ করে না যে ভিটামিন D ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। বরং এটি একটি ‘লিঙ্ক’ বা সম্পর্ক দেখায়, কারণ-প্রমাণ নয়।

কী বলছে গবেষণা
এই গবেষণায় মোট ৭৯৩ জন প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৩৯ বছর এবং গবেষণার শুরুতে কারও ডিমেনশিয়া ছিল না। প্রথমে তাঁদের রক্তে ভিটামিন D-এর মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ১৬ বছর পরে একই ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের স্ক্যান করা হয়, যেখানে দেখা হয় ডিমেনশিয়া ও Alzheimer’s disease-এর সঙ্গে যুক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন—টাউ এবং অ্যামিলয়েড বিটা।

ফলাফল বলছে, যাঁদের মধ্যবয়সে ভিটামিন D-এর মাত্রা বেশি ছিল, তাঁদের পরে টাউ প্রোটিনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। টাউ প্রোটিনকে ডিমেনশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বায়োমার্কার হিসেবে ধরা হয়।

ভিটামিন D ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক
ভিটামিন D সাধারণত হাড়ের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য পরিচিত হলেও, গবেষকরা মনে করছেন এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, ভিটামিন D শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের রক্তে ভিটামিন D-এর মাত্রা ৩০ ng/mL-এর বেশি ছিল, তাঁদের ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভাল ছিল। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই গবেষণায় ভিটামিন D-এর সঙ্গে অ্যামিলয়েড বিটা প্রোটিনের কোনও সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

কেন মধ্যবয়স এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যবয়স এমন একটি সময় যখন জীবনযাপনের অভ্যাস ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলে। এই সময় ভিটামিন D-এর মাত্রা ঠিক রাখা ভবিষ্যতে মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রোটিন জমা হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে গবেষকরা এটাও জোর দিয়ে বলছেন—ভিটামিন D একা কোনও ‘ম্যাজিক সলিউশন’ নয়। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ঘুম এবং সামগ্রিক জীবনযাপন—এই সবই মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

গবেষণার সীমাবদ্ধতা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই গবেষণা শুধুমাত্র একটি সম্পর্ক দেখা হয়, সরাসরি কারণ-ফল নয়। অর্থাৎ, ভিটামিন D বেশি থাকলে মস্তিষ্ক ভাল থাকতে পারে, কিন্তু তা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করবেই—এমন প্রমাণ নেই।

কী করণীয়?
এই গবেষণা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—মধ্যবয়স থেকেই শরীরের ভিটামিনের ভারসাম্য ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকা, ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া বা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উপকারী হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—একটি মাত্র ভিটামিনের উপর নির্ভর করলে চলবে না। দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে হলে প্রয়োজন একটি সুষম জীবনযাপন—যেখানে থাকবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সুস্থতা। এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, যাতে বোঝা যায় ঠিক কীভাবে ভিটামিন D মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তবে মস্তিষ্ক ঠিক রাখতে নিয়মিত কিছু অভ্যাসে গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]