ধর্ষণের পর চাপে ফেলে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০২:১৬:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০২:১৬:৪৬ অপরাহ্ন
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে মারা গেছেন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর, ভাসুর-ননদসহ পরিবারের ৭ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) থানায় এ মামলা করা হয়েছে।

নিহত সাহিদা আক্তার উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে।

অভিযুক্তরা হলেন—সাহিদার স্বামী মোনাইদ হোসেন (২৭), শ্বশুর মো. শফিকুল ইসলাম (৫৫), ভাসুর জুনাইদ হোসেন (৩২), ননদ মোসা. চম্পা আক্তার (১৯) এবং মামা-শ্বশুর মো. আতিকুর রহমান মন্ত্র (৫৫), কাজল মিয়া (৪৬) ও আব্দুল বারেক (৬২)। তারা সবাই একই উপজেলার পাশ্ববর্তী বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর খানেক আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে সাহিদার বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত বছরের আগস্টে নানা বাহানায় বাড়িতে গিয়ে সাহিদাকে ধর্ষণ করেন মোনাইদ হোসেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও করেন সাহিদা। মামলা থেকে বাঁচতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ। এক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন সাহিদা।

কিন্তু বিয়ের পর স্বামী মোনাইদসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে যৌতুক হিসেবে ছয় লাখ টাকা বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন মোনাইদ। দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সাহিদা। এতে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে পিটিয়ে জখম করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৯ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন সাহিদা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর রাতেই তিনি মারা যান।

পরে ১ এপ্রিল নিহতের বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে সাহিদার স্বামী মোনাইদ, শ্বশুরসহ পরিবারের সাত জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। এতে আরও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা শহিদ মিয়া বলেন, মোনাইদ মাদকসেবন করেন, জুয়া খেলেন। ধর্ষণের পর চাপে ফেলে আমার মেয়েকে তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য মারধর শুরু করেন তিনি। যৌতুক দিতে না পারায় গালাগাল করে তারা সাহিদাকে বলে—‘কত মানুষ আত্মহত্যা করে, তুই আত্মহত্যা করে মরতে পারস না।’ তাদের মারধর, গালাগাল ও অপমান-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাহিদা বিষ পান করে মারা গেছেন। আমি এর বিচার চাই। মামলার পর আসামিরা এলাকায় ঘুরছে, পুলিশ তাদের ধরছেন না।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলমান রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]