খোলা স্থানে মুরগির দুষিত বিষ্ঠা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি

আপলোড সময় : ০৪-০৪-২০২৬ ০৬:৫২:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৪-২০২৬ ০৬:৫২:১১ অপরাহ্ন
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী  গোদাগাড়ীর গোগ্রাম ইউনিয়নের (ইউপি) কমলাপুর গ্রামে ফসলের মাঠে উন্মুক্তস্থানে বিপুল পরিমাণ মুরগির দুষিত বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে।এতে তীব্র দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রভাশালীদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিন সেখানে গেলে তাদের ক্যামেরার সামনে অনেকেই কথা বলেন এবং অভিযোগ করেন। এলাকাবাসির দাবি, রাজশাহীর সনামধন্য প্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন মুরগির খামার থেকে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য এনে কমলাপুর গ্রামের ফসলি জমি ও বিল এলাকায় খোলামেলা স্থানে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী আরও জানান, দুর্গন্ধযুক্ত (বিষ্ঠা ফেলা স্থান) সেই জমির পাশ দিয়েই কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। কিন্তু দুর্গন্ধের কারনে সেখান দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়ানোই যায় না। শুধু তাই নয়, মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে এলাকায় মাছির উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব মাছি ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছে। এছাড়াও ওই এলাকার আশপাশে অসংখ্য পুকুর রয়েছে যেখানে মাছ চাষ করা হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে মাছের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস চাষীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কমলাপুর গ্রামের নুরুলের ছেলে হযরত আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব মুরগির বিষ্ঠা ফেলা হচ্ছে। তিনি ওই জমিগুলো আদি-বর্গা হিসেবে চাষ করে থাকেন এবং তার নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে। তাই সকলেই ধারনা করছে এই হযরতের নিয়ন্ত্রনে মুরগীর বিষ্ঠাগুলো ফেলা হচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে হযরত আলী এসব অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে হুমকির সুরে কথা বলেন। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি কমলাপুর গ্রামের মোড়ে উপস্থিত হলে স্থানীয়দের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এসময় সাংবাদিকদের সামনেই তিনি স্থানীয় ভ্যান চালককে মারতে তেড়ে যান।

এছাড়াও এলাকার কয়েকজনের দিকে মারমুখী আচরণ করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই কর্মযজ্ঞের হোতা হিসেবে নাবিল গ্রুপের নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নাবিল গ্রুপের লোকজন রাতের আঁধারে এগুলো ফেলে যায়!

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দেন।

এবিষয়ে উপজেলা  নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, এর আগেও কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে তারপরও এরা এগুলো করছে। তারা রাতের আঁধারে এগুলো বহন করে তাই ধরা সম্ভব হয় না। তবে এবার তাদের ডাকা হয়েছে, তারা আমার কাছে আসবে। আপনার অনুমতি নিয়ে তারা এগুলো করছে বলে অভিযুক্তরা জানাচ্ছেন, এই কথার কতটুকু সত্যতা ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। তবে তিনি আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবেন বলে আস্বস্ত করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ফসলি জমিতে এভাবে মুরগির বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]