নিউ ইয়র্কে শীতের ঠান্ডায় নয়, রোহিঙ্গা অন্ধ শাহ আলমের মৃত্যু ছিল হত্যাকাণ্ড!

আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০৩:৫০:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০৩:৫০:২৭ অপরাহ্ন
মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার কয়েকদিন পর নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মৃত অবস্থায় পাওয়া এক শরণার্থীর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় অন্ধ এবং ইংরেজি না জানা ওই শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলম-এর মৃত্যুর ধরন ‘হোমিসাইড’ বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে স্টেট মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তর।

মার্ক পোলোনকার্জ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শাহ আলমের মৃত্যুর কারণ ছিল 'হাইপোথার্মিয়া ও পানিশূন্যতার ফলে সৃষ্ট জটিলতা থেকে উদ্ভূত একটি ছিদ্রযুক্ত আলসার।' তিনি ব্যাখ্যা করেন, মৃত্যুর কারণ বলতে সেই রোগ বা আঘাতকে বোঝায় যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। আইনগত কারণে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

এরি কাউন্টির স্বাস্থ্য কমিশনার ড. গেল বারস্টেইন বলেন, শাহ আলমের একটি ‘স্ট্রেস আলসার’ ছিল, যা ফেটে গেলে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু হতে পারে। তিনি এটিকে 'একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি' বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, শাহ আলম তীব্র মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে ছিলেন যার মধ্যে ছিল প্রচণ্ড ঠান্ডা (হাইপোথার্মিয়া) এবং পানিশূন্যতা।

বার্নস্টিন বলেন, ‘হোমিসাইড’ হিসেবে মৃত্যুর শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ হলো অন্য কারও কাজ, অবহেলা বা সিদ্ধান্তের ফলে মৃত্যু ঘটেছে। তবে এটি অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল এমনটি বোঝায় না; সেটি বিচারিক ব্যবস্থার বিষয়।

তবে কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান যে, তাকে যেদিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল সেদিন সিবিপি-এর পদক্ষেপ তার মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ-এর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ব্লেন, শাহ আলম 'গণহত্যা থেকে পালিয়ে এই দেশে নতুন জীবন গড়তে এসেছিলেন, কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে তাকে একা কষ্ট পেতে হয়েছে।'

তিনি জানান, তার দপ্তর এখনো ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

বাফেলোর মেয়র শন রায়ান বলেন, এই মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল এবং এটি সিবিপি-এর দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার উদাহরণ।

তিনি বলেন, 'প্রায় অন্ধ এবং ইংরেজি বলতে অক্ষম একজন দুর্বল মানুষকে শীতের রাতে একা ফেলে রাখা হয়েছে—যা অমানবিক ও অপ্রফেশনাল আচরণ।'

এর আগে সিবিপি জানায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি বাফেলো পুলিশ তাদের হেফাজতে থাকা এক নন-সিটিজেন সম্পর্কে বর্ডার প্যাট্রোলকে জানায়। পরে জানা যায়, শাহ আলম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাকে বহিষ্কার করা সম্ভব ছিল না।

সংস্থাটি দাবি করে, শাহ আলমকে একটি কফি শপে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, যা তার সর্বশেষ পরিচিত ঠিকানার কাছে একটি 'উষ্ণ ও নিরাপদ স্থান' হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

তবে তার পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে কোথায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে তা তাদের কাউকে জানানো হয়নি।

শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, 'আমাকে বা আমার পরিবার কিংবা আইনজীবীকে কেউ জানায়নি আমার বাবাকে কোথায় নামানো হয়েছে।'

পরিবার জানায়, তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী।

এই মৃত্যু নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সিবিপি-এর আচরণের সমালোচনা করেছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]