“শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড”—এই বহুল উচ্চারিত প্রবাদটি যেন জীবন্ত রূপ পেয়েছিল এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানে। কারণ, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি মানুষ গড়ার কারিগর, সমাজ বিনির্মাণের নীরব স্থপতি। আর সেই মহান দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ অধ্যায় শেষ করে বিদায়ের পথে পা বাড়ালেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় তাঁর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা। দিনটি ছিল একদিকে সম্মান ও কৃতজ্ঞতার, অন্যদিকে বেদনা ও বিচ্ছেদের। যেন সময় নিজেই থমকে দাঁড়িয়ে দেখছিল এক মহৎ জীবনের গৌরবময় পরিসমাপ্তি।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহম্মেদ হোসেন বিপ্লবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাণীশংকৈল কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসান আলী নবাব।
এছাড়াও বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক সারোয়ার হোসেন, আব্দুল ওহাব, আব্দুল মান্নান, সিনিয়র সাংবাদিক মোবারক আলী, সাংবাদিক হযরত আলী, অভিভাবক সদস্য আবুল কাশেম, মকিমউদ্দিন এবং শিক্ষার্থী সাভিয়া ইসলাম, সোহাব ইসলাম ও লামিয়া আক্তার। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তাঁরা বলেন, “আহসান হাবিব স্যার ছিলেন শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং প্রেরণার উৎস। তাঁর স্নেহময় শাসন, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ আমাদের জীবনে চিরকাল আলো জ্বালিয়ে রাখবে।” সভাপতির বক্তব্যে আহম্মেদ হোসেন বিপ্লব বলেন, “একজন ভালো শিক্ষক কখনো অবসর নেন না—তিনি তাঁর ছাত্রদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকেন। আহসান হাবিব স্যার তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও আদর্শ দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষককে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানাই।”প্রধান অতিথি হাসান আলী নবাব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একজন শিক্ষকের বিদায় মানে একটি যুগের অবসান। তবে তাঁর আদর্শ ও শিক্ষাদান পদ্ধতি যদি আমরা ধারণ করতে পারি, তবেই তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।”
সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ছিল বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিবের বক্তব্য। অশ্রুসজল নয়নে তিনি বলেন,“এই বিদ্যালয় আমার কাছে শুধু কর্মস্থল নয়, এটি আমার প্রাণের ঠিকানা। এখানে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলো কাটিয়েছি। শিক্ষার্থীদের হাসি, সহকর্মীদের আন্তরিকতা—সবকিছুই আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। আজ বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু ভালোবাসার এই বন্ধন কখনো ছিন্ন হবে না। তোমরা সবাই মানুষ হও—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।” তিনি আরও বলেন, “সময় বড় নির্মম—সে কাউকে অপেক্ষা করে না। তাই বিদায় অবশ্যম্ভাবী। তবুও বিশ্বাস করি, এই বিদ্যালয় একদিন আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে, আর আমার ছাত্ররা দেশের গর্ব হয়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর চোখে জল আর হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার ঢেউ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।শেষ মুহূর্তে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে চারপাশে তাকিয়ে বিদায়ী শিক্ষক যেন স্মৃতির পাতায় শেষবারের মতো আঁকছিলেন তাঁর কর্মজীবনের অমলিন চিত্র। বিদায় বেদনাময়—তবুও সময়ের বিচারে আমরা সবাই নতজানু। আর সেই নতজানু স্বীকারোক্তির মাঝেই লুকিয়ে থাকে এক মহান জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় তাঁর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা। দিনটি ছিল একদিকে সম্মান ও কৃতজ্ঞতার, অন্যদিকে বেদনা ও বিচ্ছেদের। যেন সময় নিজেই থমকে দাঁড়িয়ে দেখছিল এক মহৎ জীবনের গৌরবময় পরিসমাপ্তি।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহম্মেদ হোসেন বিপ্লবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাণীশংকৈল কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসান আলী নবাব।
এছাড়াও বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক সারোয়ার হোসেন, আব্দুল ওহাব, আব্দুল মান্নান, সিনিয়র সাংবাদিক মোবারক আলী, সাংবাদিক হযরত আলী, অভিভাবক সদস্য আবুল কাশেম, মকিমউদ্দিন এবং শিক্ষার্থী সাভিয়া ইসলাম, সোহাব ইসলাম ও লামিয়া আক্তার। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তাঁরা বলেন, “আহসান হাবিব স্যার ছিলেন শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং প্রেরণার উৎস। তাঁর স্নেহময় শাসন, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ আমাদের জীবনে চিরকাল আলো জ্বালিয়ে রাখবে।” সভাপতির বক্তব্যে আহম্মেদ হোসেন বিপ্লব বলেন, “একজন ভালো শিক্ষক কখনো অবসর নেন না—তিনি তাঁর ছাত্রদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকেন। আহসান হাবিব স্যার তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও আদর্শ দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষককে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার আহ্বান জানাই।”প্রধান অতিথি হাসান আলী নবাব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একজন শিক্ষকের বিদায় মানে একটি যুগের অবসান। তবে তাঁর আদর্শ ও শিক্ষাদান পদ্ধতি যদি আমরা ধারণ করতে পারি, তবেই তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।”
সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ছিল বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিবের বক্তব্য। অশ্রুসজল নয়নে তিনি বলেন,“এই বিদ্যালয় আমার কাছে শুধু কর্মস্থল নয়, এটি আমার প্রাণের ঠিকানা। এখানে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলো কাটিয়েছি। শিক্ষার্থীদের হাসি, সহকর্মীদের আন্তরিকতা—সবকিছুই আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। আজ বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু ভালোবাসার এই বন্ধন কখনো ছিন্ন হবে না। তোমরা সবাই মানুষ হও—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।” তিনি আরও বলেন, “সময় বড় নির্মম—সে কাউকে অপেক্ষা করে না। তাই বিদায় অবশ্যম্ভাবী। তবুও বিশ্বাস করি, এই বিদ্যালয় একদিন আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে, আর আমার ছাত্ররা দেশের গর্ব হয়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর চোখে জল আর হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার ঢেউ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।শেষ মুহূর্তে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে চারপাশে তাকিয়ে বিদায়ী শিক্ষক যেন স্মৃতির পাতায় শেষবারের মতো আঁকছিলেন তাঁর কর্মজীবনের অমলিন চিত্র। বিদায় বেদনাময়—তবুও সময়ের বিচারে আমরা সবাই নতজানু। আর সেই নতজানু স্বীকারোক্তির মাঝেই লুকিয়ে থাকে এক মহান জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।