অ্যাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীদের আইনি মর্যাদা পুনর্বহালের নির্দেশ আদালতের

আপলোড সময় : ০২-০৪-২০২৬ ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৪-২০২৬ ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন
ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে এক ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, যারা সিবিপি ওয়ান অ্যাপ ব্যবহার করে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের আইনি মর্যাদা পুনর্বহাল করতে হবে।

ম্যাসাচুসেটস জেলার ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালিসন ডি. বুরোস ২৫ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, বিচার বিভাগ তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং নিজস্ব নিয়মাবলীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এই রায়ের সমালোচনা করে একে 'স্পষ্ট বিচারিক সক্রিয়তা' বলে উল্লেখ করেছে।

ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সিবিপি ওয়ান কর্মসূচির মাধ্যমে 'লাখো অবৈধ অভিবাসী' যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সীমান্ত সংকটকে তীব্র করেছে। তারা দাবি করে, ফেডারেল আইনের অধীনে এই ‘প্যারোল’ বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসীরা সীমান্ত প্রবেশপথে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে পারতেন। বিচারকের আদেশে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যারা এই অ্যাপের মাধ্যমে দেশে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন এবং যাদের আশ্রয় আবেদন এখনো অভিবাসন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই নির্দেশনা ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে সিবিপি ওয়ান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এবং এখনো দেশে অবস্থান করছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা-এর তথ্য অনুযায়ী, ৯ লাখের বেশি অভিবাসী এই অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। তারা কাজের অনুমতি পেয়েছেন এবং সর্বোচ্চ দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

পরবর্তীতে ডিএইচএস এই অ্যাপটি বাতিল করে নতুন সিবিপি ওয়ান চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল অভিবাসন কমানো।

নতুন অ্যাপটিতে ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’ সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী মর্যাদা ছাড়া বসবাসরত অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।

ডিএইচএস জানায়, যারা সিবিপি ওয়ান ব্যবহার করবেন, তাদের আটক করার অগ্রাধিকার কমানো হবে এবং ভ্রমণ সহায়তাও দেওয়া হবে। আগে এই সহায়তার পরিমাণ ছিল ১,০০০ ডলার, পরে তা ৩,০০০ ডলারে বাড়ানো হয় এবং সম্প্রতি তা ২,৬০০ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কিছু অভিবাসী অভিযোগ করেছেন, তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও প্রতিশ্রুত অর্থ পাননি। মানবাধিকার কর্মী ও অলাভজনক সংস্থাগুলোও এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।

সরকারি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও নিউ ইয়র্ক টাইমস -এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

এই রায়টি আসে ম্যাসাচুসেটসের ভেনেজুয়েলান অ্যাসোসিয়েশন (ভিএএম) এবং ভেনেজুয়েলা, কিউবা ও হাইতির তিন অভিবাসীর করা একটি যৌথ মামলার পর। তারা যুক্তি দেন, অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা বাতিল করা শুধু অবৈধ নয়, বরং সমাজে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করে।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, 'এই সিদ্ধান্ত হাজারো মানুষের জন্য উপকার বয়ে আনবে, যারা নিয়ম মেনে চলেছিল। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।'

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]