রাজশাহীর শাহমখদুম কলেজের এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্ররাজনীতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ মার্চ) বিকেলে কলেজ পরিচালনা কমিটির এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ আল মারুফ। তিনি কলেজটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
কলেজের অধ্যক্ষ এস এম রেজাউল ইসলাম জানান, পরিচালনা কমিটির সভায় রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামানকে মারধরের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পরে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ৬ মার্চ রাতে আবদুল্লাহ আল মারুফসহ দুই ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বেশ কয়েক মাস ধরে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক আসাদুজ্জামানের কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন আবদুল্লাহ আল মারুফ। অভিযোগ অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২৬ নভেম্বর তাকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে চলতি বছরের ৪ মার্চ নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় বাসার সামনে একা পেয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং আবারও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে রোববার বিকেলে নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এলাকায় মানববন্ধন করে ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেন, মামলাটি মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।