হাই-প্রোটিন ডায়েট নিয়ে চিকিৎসকের বড় সতর্কবার্তা

আপলোড সময় : ১২-০৩-২০২৬ ১০:৩২:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৩-২০২৬ ১০:৩২:০৬ অপরাহ্ন
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যায় ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা প্রোটিন শেক বা হাই-প্রোটিন ডায়েটের গুণগান করছেন। জিমপ্রেমী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দিনে ৩-৪ বার প্রোটিন শেক খাওয়া এখন জলভাত। পেশি তৈরি, ওজন কমানো বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন অবশ্যই অপরিহার্য। কিন্তু হুজুগে পড়ে অতিরিক্ত প্রোটিন (High Protein) হণ কি আদৌ শরীরের জন্য নিরাপদ?

বিশ্ব কিডনি দিবসে নেফ্রোলজিস্টরা বলছেন, প্রোটিন ডায়েট নিয়ে অন্ধ অনুকরণ কিডনির জন্য চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ শহরের অন্যতম চিকিৎসক ডা. আশিস মিত্র জানাচ্ছেন, প্রত্যেকের শরীরের প্রোটিনের চাহিদা আলাদা। তাই ব্যক্তিগত পরামর্শ ছাড়া চড়া মাত্রায় প্রোটিন খাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তিনি আরও জানান, যদি কিডনির সমস্যা প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকে তাহলে সাধারণ মাত্রায় প্রোটিন খাওয়া যেতে পারে; কিন্তু কী ধরণের প্রোটিন খাচ্ছেন সেটা জরুরি।

প্রোটিন কীভাবে কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে?
আমরা যখন প্রোটিন জাতীয় খাবার খাই, তখন বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর ইউরিয়া এবং ক্রিয়েটিনিনের মতো কিছু বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে। এই বিষাক্ত বর্জ্যগুলি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের কিডনির।

ডা. মিত্রর কথায়, "যখন কেউ অতিরিক্ত প্রোটিন খান, তখন কিডনিকে সেই বর্জ্য পরিষ্কার করতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘গ্লোমেরুলার হাইপারফিল্ট্রেশন’। সুস্থ শরীরে সাময়িকভাবে এটি সামলে নেওয়া সম্ভব হলেও, দীর্ঘদিন ধরে এই চাপ বজায় থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম ছাঁকনিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।"

প্রোটিন ডায়েট কেন এত জনপ্রিয়?
১. পেশি গঠন: জিম বা ভারী শরীরচর্চার পর পেশি মেরামতের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন।
২. ওজন কমানো: প্রোটিন খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে, যার ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন দ্রুত কমে।
৩. কিটো বা লো-কার্ব ডায়েট: বর্তমানে জনপ্রিয় অনেক ডায়েট প্ল্যানেই কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই ট্রেন্ডের সুযোগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রি প্রোটিন পাউডার এবং হাই-প্রোটিন স্ন্যাকসের ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এর ফলে অনেক মানুষই নিজের অজান্তে শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন খেয়ে ফেলছেন।

কাদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
উচ্চ প্রোটিন ডায়েট সবার জন্য সমান ক্ষতিকর না হলেও নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি 'বিষ' হয়ে দাঁড়াতে পারে:
যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা (CKD) আছে: তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির বার্ধক্য বা বিকল হওয়ার গতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী: সুগার বা প্রেসার কিডনির রক্তনালীগুলোকে আগে থেকেই দুর্বল করে রাখে। তার ওপর অতিরিক্ত প্রোটিনের চাপ কিডনি সইতে পারে না।
প্রবীণ নাগরিক: বয়সের সাথে সাথে কিডনির কর্মক্ষমতা এমনিতেই কিছুটা কমে আসে, তাই বয়স্কদের জন্য উচ্চ প্রোটিন ডায়েট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রোটিনের উৎস কি তা গুরুত্বপূর্ণ?

হ্যাঁ, অবশ্যই। গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরণের প্রোটিন কিডনির ওপর সমান প্রভাব ফেলে না।

রেড মিট বা প্রসেসড মিট: খাসির মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস কিডনির ওপর অ্যাসিড ও ফসফেটের বাড়তি বোঝা তৈরি করে।

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: ডাল, সয়াবিন, বাদাম, বিনস—এই উৎসগুলো কিডনির জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।
মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে খান। এতেও প্রচুর স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয় যা শরীরে প্রদাহ তৈরি করে এবং কিডনির ক্ষতি করে। তাই অল্প পরিমাণে চিকেন খাবেন। মাছ বিশেষ করে ছোট চারা মাছ খাওয়া যেতে পারে, তবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। ডিম খান এবং কম তেলে রান্না করুন।

সাপ্লিমেন্টের 'লুকানো' বিপদ
অনেক সময় মানুষ না বুঝেই প্রোটিন পাউডার বা সাপ্লিমেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। দিনের মোট প্রোটিনের হিসাব না কষেই এই সাপ্লিমেন্টগুলো খাওয়ার ফলে কিডনির ওপর নিঃশব্দে চাপ বাড়তে থাকে। তাই ডায়েট চার্টে আমূল বদল আনার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক পরিমাণ কী?
সুস্থ থাকতে ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল কথা। সাধারণত:
স্বল্প পরিশ্রমী যাঁরা: প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিদিন ০.৮ গ্রাম প্রোটিন।
শারীরিকভাবে সক্রিয় যাঁরা: প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১.০ থেকে ১.৬ গ্রাম প্রোটিন।
যাঁরা শরীরের ওজনের তুলনায় ২ গ্রামের বেশি প্রোটিন খাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি।
শরীরচর্চা বা ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে প্রোটিন বাড়ান, কিন্তু কিডনিকে অবহেলা করে নয়। পর্যাপ্ত জল পান, সুষম আহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শই হতে পারে আপনার দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]