যুদ্ধের সপ্তম দিনেও ইরানে মুহুর্মুহু হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০২:৫৩:০৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০২:৫৩:০৭ অপরাহ্ন
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সপ্তম দিনে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বিমান হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই বোমাবর্ষণকে যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ও তীব্র আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন আল-জাজিরার সংবাদদাতারা। 

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, হামলার এই মাত্রা আগামীতে আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা তেহরানের ওপর নতুন করে ‘ব্যাপকভিত্তিক হামলার ঢেউ’ শুরু করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের মাটির গভীরে প্রোথিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চারগুলো লক্ষ্য করে ডজনখানেক বিশেষ ‘পেনিট্রেটর’ বোমা নিক্ষেপ করেছে।

তেহরানে অবস্থানরত আল-জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব তেহরানে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দে গোটা শহর কেঁপে উঠছে। এসব বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আল-জাজিরার ব্যুরো অফিসও প্রকম্পিত হয়। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ এবং বেশ কিছু আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

এ ছাড়া একটি সামরিক একাডেমি আক্রান্ত হওয়ার সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একজন সংবাদকর্মী সেখান থেকে সরাসরি সংবাদ প্রচার করছিলেন। আসাদি আরও জানান যে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি আবাসিক ভবন, পার্কিং লট এবং গ্যাস স্টেশনের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোও এই বিধ্বংসী হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, বি-২ বোমারু বিমান থেকে নিক্ষেপ করা ২ হাজার পাউন্ড ওজনের পেনিট্রেটর বোমাগুলো ইরানের সুড়ঙ্গে লুকানো ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের মহাকাশ কমান্ডের (স্পেস কমান্ড) সমতুল্য স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানা হয়েছে, যাতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হুমকির মাত্রা কমিয়ে আনা যায়। 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, সামনের ৭২ ঘণ্টায় আরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং বোমারু বিমান এই অভিযানে অংশ নেবে এবং হামলার পৌনঃপুনিকতা বা ফ্রিকোয়েন্সি বহুগুণ বাড়ানো হবে। তেহরান ছাড়াও কেরমানশাহ, শিরাজ এবং ইসফাহান শহরের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

যুদ্ধের এই ভয়াবহতায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে। ইউনিসেফ শুক্রবার জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮১ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭৫ জন শিশু ও কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন ওই স্কুলে হামলার জন্য সম্ভবত মার্কিন বাহিনীই দায়ী, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ এবং এর সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধের ইতিহাসে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]