১৪ লাখ টন পাথর মজুদ, বিক্রি নেই উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা: বেকার হবেন হাজারো শ্রমিক

আপলোড সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৩:২৬:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৩:২৬:২৩ অপরাহ্ন
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী মধ্যপাড়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ মধ্যপাড়া পাথরখনিতে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন স্বাভাবিক থাকলেও উত্তোলিত পাথর বিক্রি কমে যাওয়াসহ মজুদ করার জায়গা সংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন বন্ধ হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খনি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাথর ইয়ার্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর মজুদ রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার প্রায় সমান। নিয়মিত উত্তোলনের ফলে প্রতিদিনই মজুদের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু বাজারে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি না হওয়ায় ইয়ার্ড প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে উত্তোলিত পাথর রাখার জায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জায়গা সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

খনির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ভূগর্ভস্থ খনিতে ধারাবাহিক উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হলে যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে। উৎপাদন ব্যাহত হলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে এ অবস্থা চলতে থাকলে খনির আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, খনির উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) দায়িত্ব নেওয়ার পর উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এতে খনিটি কিছুদিনের মধ্যেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। তবে বর্তমানে বাজারে পাথরের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি বড় প্রকল্পে খনির পাথর ক্রয় প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে মধ্যপাড়ার পাথরের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে এবং দেশীয় খনি শিল্পও টিকে থাকবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় ও দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

খনিতে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাথরখনিকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। খনির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হলে শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, সরবরাহকারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডি. এম. জোবায়েদ হোসেন বলেন, সরকারি প্রকল্পে মধ্যপাড়া খনির পাথর ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]