ভূমিকম্প আল্লাহর সতর্কবার্তা

আপলোড সময় : ২৭-০২-২০২৬ ০৩:৩৬:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০২-২০২৬ ০৩:৩৬:০৬ অপরাহ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ -অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্যে যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সে শক্তি হঠাৎ মুক্তি পেলে ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূ-ত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়; এইরূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। সাধারণত কম্পন-তরঙ্গ থেকে যেই শক্তির সৃষ্টি হয়, তা ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ভূমিকম্প কেন হয়: বিজ্ঞানের মতে, যখন পৃথিবীর দুটি ব্লক হঠাৎ একে অপরের পাশ দিয়ে পিছলে যায়, তখন ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যে তল বরাবর এই পিছলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, তা চ্যুতিতল বা ফল্ট প্লেন নামে পরিচিত। আর পৃথিবীপৃষ্ঠের নিচে যে স্থান থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, সেটিকে বলা হয় হাইপোসেন্টার বা ভূমিকম্পের কেন্দ্র। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক ওপরে থাকা স্থানটিকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র বলা হয়।
 
কুরআনের দৃষ্টিতে ভূমিকম্প: ১. ভূমিকম্প কখনো গজব, কিছু জাতি তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়েছে। তাদের অন্যতম সামুদ জাতি। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করলো, আর তারা নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইলো।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৭৮)।
 
২. ভূমিকম্প কখনো আল্লাহর  সতর্কবার্তা, ভূমিকম্প হলো মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। যেন মানুষ তাওবা করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে। 
 
নিজেদের আচার-আচরণ শুধরে নেয়। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দুআ করে। আল্লাহকে অনেক বেশি স্মরণ করে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন ‘আমি নিদর্শনসমূহ (প্রাকৃতিক বিপর্যয়) পাঠাই শুধুমাত্র ভয়-সতর্কতা প্রদর্শনের জন্য।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ৫৯)। 

ভূমিকম্প আল্লাহর শক্তির প্রকাশ: আল্লাহ তাআলা বলেন, 'বলে দিন, আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম।’ (সুরা আনআম: আয়াত ৬৫)। অন্যত্র বলেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২০)।
 
ভূমিকম্প কেয়ামতের স্মরণ: মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় কেয়ামতের ভূকম্পন একটি ভয়াবহ ব্যাপার। সেদিন তোমরা দেখবে প্রত্যেক স্তন্য দানকারিনী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে, আপনি দেখবেন মানুষকে মাতালের মতো, অথচ তারা মাতাল নয়। তবে আল্লাহর আজাবই কঠিন।’ (সুরা হজ: আয়াত ১-২)।

অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন, ‘যখন জমিন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে। আর জমিন তার বোঝা বের করে দেবে। আর মানুষ বলবে, এর কী হলো? সেদিন জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কারণ আপনার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে বের হয়ে আসবে যাতে দেখানো যায় তাদেরকে তাদের নিজদের কৃতকর্ম।’ (সুরা জিলজাল: আয়াত ১-৬)।
 
ভূমিকম্প মানুষের কামাই: ভূমিকম্পসহ সব ধরনের বিপর্যয় মানুষের হাতের কামাই, অপরাধের ফল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক (অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা: আয়াত ৩০)।
 
ভূমিকম্প আল্লাহর পরিক্ষা: যেসব মুমিন এ ধরনের বিপর্যয়ে বেঁচে যায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এগুলো তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। এ সময় ধৈর্য ধারণ করলে মহান আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৫৫)।
 
হাদিসের আলোকে ভূমিকম্প: প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ মানুষের অপকর্ম। হজরত আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যখন গনিমতের সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, আমানাত লুটের সম্পদে পরিণত হবে, জাকাত জরিমানা হিসেবে গণ্য হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধুর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে কিন্তু পিতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে, মসজিদে শোরগোল করা হবে, সবচেয়ে খারাপ চরিত্রের লোক হবে তার সম্প্রদায়ের নেতা, কোন ব্যক্তিকে তার অনিষ্টতার ভয়ে সম্মান করা হবে, মদ পান করা হবে, রেশমি বস্ত্র পরিধান করা হবে, নর্তকী গায়িকাদের প্রতিষ্ঠিত করা হবে, বাদ্যযন্ত্রগুলোর বৃদ্ধি হবে এবং এই উম্মতের শেষ সময়ের লোকেরা তাদের পূর্ব যুগের লোকদের অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা একটি অগ্নিবায়ু অথবা ভূমিধ্বস অথবা চেহারা বিকৃতির আজাবের অপেক্ষা করবে।’ (তিরমিজি: হাদিস ২২১০)।
 
ভূমিকম্প কেয়ামতের পূর্বাভাস: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং খুনখারাবি বাড়বে, তোমাদের সম্পদ এতো বাড়বে যে, উপচে পড়বে। (বুখারি: হাদিস ১০৩৬)।
 
ভূমিকম্প কখনো মর্যাদা বুলন্দকারী: মুমিনের উপর আগত বড় বড় বিপর্যয়ের কারণে অনেক সময় মুমিনের গোনাহ মাফ হয়ে যায় এবং মৃত্যু হলে শহীদি মর্তবা লাভ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শহীদ পাঁচ প্রকার (১) প্লেগাক্রান্ত (বা মহামারিতে মৃত), (২) পেটের পীড়ায় মৃত, (৩) যে পানিতে ডুবে মারা গিয়েছে, (৪) ভূমিকম্পে কিছু চাপা পড়ে যার মৃত্যু হয়েছে এবং (৫) আল্লাহর পথে যে ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন।’ (মুয়াত্তায়ে মালেক: হাদিস ২৮৫)। আবু মুসা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার এ উম্মত দয়াপ্রাপ্ত, পরকালে এদের কোনো শাস্তি হবে না, আর ইহকালে তাদের শাস্তি হলো, ফেতনাসমূহ, ভূমিকম্প ও যুদ্ধবিগ্রহ।’ (আবু দাউদ: হাদিস  ৪২৭৮)।
 
করণীয়: ১. খুব বেশি তাওবা ইস্তেগফার করা। ২. দান সদকা বৃদ্ধি করা। ৩. হক আদায় করা। ৪. আল্লাহর হুকুম পালনে সচেষ্ট হওয়া। ৫. সব ধরনের নাফরমানি ও গোনাহ ছেড়ে দেওয়া।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]