পবার হরিপুরে কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: দায়সারা কাজ করে অর্থ উত্তোলনের দাবি, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

আপলোড সময় : ২৫-০২-২০২৬ ০৯:৩০:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০২-২০২৬ ০৯:৩০:৪৯ অপরাহ্ন
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়সারাভাবে নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করেছেন হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান রাসেল। এ নিয়ে ইউনিয়নজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলে রেজভি আল হাসান মঞ্জিলের প্রভাবেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকলেও আড়াল থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সাবেক চেয়ারম্যান। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মানও কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পবা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দায়িত্বে অনুপস্থিত হন। এর প্রেক্ষিতে হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মঞ্জিল দায়িত্বে না থাকায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুশফিকুর রহমান রাসেল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর রাস্তা সংস্কারের নামে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম করা হয়েছে। বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়ে নামমাত্র কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় আটটি রাস্তার সংস্কার কাজ করা হয়। এর মধ্যে দুটি কাবিখা এবং ছয়টি কাবিটা প্রকল্পের আওতায়। প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এসব রাস্তার সংস্কারে মোট প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

সংস্কারকৃত রাস্তার তালিকায় রয়েছে, চরমাজারদিয়াড় মোজাহারের বাড়ি থেকে জাক্কারের বাড়ি (ব্যয়: ২ লাখ টাকা), চরমাজারদিয়াড়ে শফিকের বাড়ি থেকে সদরের বাড়ি (ব্যয়: ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা), নবগঙ্গা আলতাবের দোকান থেকে লিটনের বাড়ি (ব্যয়: ২ লাখ টাকা), সোনাইকান্দি শামিমের দোকান থেকে কারিফুলের দোকান (ব্যয়: ২ লাখ টাকা), বেড়পাড়া সাত্তার উদ্দিনের বাড়ি থেকে সাহাবুদ্দিনের বাড়ি (ব্যয়: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা), নতুন কসবা বাঘিয়াপুকুর হাসানের বাড়ি থেকে কালামের বাড়ি (ব্যয়: ২ লাখ টাকা), খোলাবোনা নিঝুমপল্লি কাওসারের বাড়ি থেকে পারুলার বাড়ি (ব্যয়: ২ লাখ টাকা), আলিমগঞ্জ মরদিঘী তাজমুলের বাড়ি থেকে বাবুর বাড়ি (ব্যয়: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা)। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী তিন ইঞ্চি পরিমাণ এক নম্বর ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে রোলার করার কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে এক ইঞ্চিও খোয়া ব্যবহার করা হয়নি। কোথাও কোথাও শুধু বালু ফেলে রোলার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে রোলারও চালানো হয়নি।

নবগঙ্গা এলাকায় আলতাবের দোকান থেকে লিটনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০-৬০০ ফুট রাস্তা ২ লাখ টাকায় সংস্কার করা হয়। রাস্তার দুই পাশে ইট বসানো হলেও মাঝখানে পর্যাপ্ত খোয়া ও বালু না দেওয়ায় পাশের ইট আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি উঁচু হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমবে।

রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে কাজ বন্ধের চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাদের হুমকি দিয়ে কাজ শেষ করা হয়। বর্তমানে রাস্তার বালু সরে গিয়ে খোয়া বের হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান রাসেল বলেন, “কোনো অনিয়ম হয়নি। যেখানে মাটি দিয়ে রাস্তা করার কথা ছিল, সেখানে ইট দিয়ে করেছি। যারা অভিযোগ করছেন, তারা সঠিক তথ্য জানেন না।

পবা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, “আমি যোগদানের আগেই কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। শুনেছি ডিসেম্বরে কাজ শেষ করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, পরে আবার জানুয়ারিতেও কাজ হয়েছে বলে শুনেছি। স্থানীয়দের কাছ থেকে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিম্নমানের কাজ পুনরায় সঠিকভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]