বগুড়ায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন শিক্ষিকা

আপলোড সময় : ২৪-০২-২০২৬ ০৩:০৮:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০২-২০২৬ ০৩:০৮:১২ অপরাহ্ন
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও মাসের পর মাস বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা হলেন ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক আফরিনা রহমান।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফরিনা রহমান মাসে মাত্র এক দিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের সই করে ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করে আসছেন। প্রশাসনিক কোনো অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও তিনি কীভাবে এই সুযোগ পাচ্ছেন তা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, বগুড়া সদরের আতাউর রহমানের মেয়ে আফরিনা রহমান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এনটিআরসিএ) থেকে সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। বিধি অনুযায়ী তিনি ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর নিয়মিত পাঠদানে তাকে পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা শুনেছে গণিত বিষয়ের একজন শিক্ষক যোগদান করেছেন, কিন্তু বাস্তবে কখনো তাকে বিদ্যালয়ে দেখেনি। এমনকি তার নামও অনেকের জানা নেই। শিক্ষার্থীদের মতে, গণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও দীর্ঘদিন শিক্ষক না থাকায় তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, যদি ওই শিক্ষিকার চাকরির প্রয়োজন না থাকে, তাহলে তার স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আফরিনা রহমান বলেন, আমি বিনা বেতনে ছুটিতে রাখার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে যে কয়েক মাসের বেতন উত্তোলন করেছি, সে সময়গুলোর হাজিরা খাতায় আমার সই করা আছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, যোগদানের পর তিনি মাত্র দুই দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এরপর নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলেও প্রতি মাসেই বেতন তুলেছেন। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও তাকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত করা যায়নি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে তার বেতন বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে গণিত বিষয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]