রাজশাহী অঞ্চলে বিলুপ্ত সিনেমা হল

আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০২:০৬:৫৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০২:০৬:৫৬ অপরাহ্ন
রাজশাহী অঞ্চলে নানা সংকটের মুখে বিলুপ্তর পথে সিনেমা হল বা প্রেক্ষাগৃহ। দেশের বিনোদন জগতে সবচেয়ে বৃহৎ এবং আকর্ষণীয় মাধ্যম সিনেমা। আবার সিনেমা প্রদর্শনের প্রধান মাধ্যম সিনেমা হল বা প্রেক্ষাগৃহ। একটা সময় ছিল, যখন শুধু উৎসব নয় বরঞ্চ সারা বছর সপরিবারে সিনেমা হলে যেতেন সিনেমা প্রেমী দর্শকরা। পারিবারিক এবং সামাজিক ঘরানার সিনেমাগুলো সবাই মিলে উৎস বমুখর পরিবেশে উপভোগ করতে পারতো। এমনও দেখা যেত যে তখন দর্শকের চাপে টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। সিনেমা হলের সামনে সাইনবোর্ডে লেখা থাকতো ‘হাউজ ফুল’। একটা সময় অশ্লীলতার কারণে সিনেমা হল থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করে দর্শক। তবে বর্তমানে সিনেমায় অশ্লীলতা দূর হলেও মানসম্মত ও পর্যাপ্ত সিনেমার অভাবে ক্রমান্বয়ে সিনেমা হল বন্ধ ঠেকানো যাচ্ছে না। দেশের এক হাজার ৪৭০টি সিনেমা হল থেকে কমতে কমতে এখন প্রায় ৫০টিতে এসে ঠেকেছে। ঈদ উৎসবে এর সংখ্যা বেড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি হয়। সাময়িকভাবে কিছু সিনেমা হল তখন খোলা হয়। ঈদপরবর্তী সেগুলো আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীতে ৬টি সিনেমা হল চালু ছিল। বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে এখন একটিও সিনেমা হল টিকে নাই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে মহানগরীর ৫টি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ পর্যন্ত টিকে ছিল ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত 'উপহার' সিনেমা হল। ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

এছাড়াও তানোরে ২টি, মোহনপুরের কেশরহাট একটি, বাগমারা মাদারিগঞ্জ একটি, মান্দার দেলুয়াবাড়ি ২টি, আমনুরা একটি, কাঁকনহাট একটি,পবার নওহাটা ২টি ও দুর্গাপুরে একটিসহ রাজশাহী অঞ্চলের সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। 
জানা যায়, তানোরের আনন্দ সিনেমা হলে গত বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখানো হয়েছিল। ব্যতিক্রমী আয়োজনে ফুটবলপ্রেমীরা টিকিট কেটে এই সিনেমা হলে খেলা উপভোগ করেছেন। সিনেমা হলে এখানো সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা থাকলেও দর্শক সংকটের কারণে সিনেমা দেখানো হয় না।

এদিকে বাঙালি সাংস্কৃতিক উৎসবের বেশিরভাগ সময় জুড়েই রয়েছে সিনেমা হলের রঙীন নানা স্মৃতি। এক সময় ঈদ-পুজা এলেই সিনেমা হলে নতুন কি সিনেমা আসছে, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শকদের মধ্যে। এখন হাতের নাগালে প্রযুক্তি চলে আসায় সেই আগ্রহ যেমন কমেছে, তেমনি বিলুপ্তির পথে সিনেমা হলগুলো। 

রাজশাহীর তানোর আনন্দ সিনেমা হলের সামনের চা-দোকানি রমজান আলী বলেন, তার বাবা প্রয়াত তমির উদ্দিন ৮০ দশকে তানোরে টিনের বেড়া দিয়ে প্রথম সিনেমা হল তৈরি করেছিলেন। এ সময় সিনেমা নিয়ে মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ছিলো।পরবর্তীতে একই স্থানে কালীগঞ্জ হাটের মামুন আনন্দ সিনেমা হল নির্মাণ করেন। তবে বর্তমানে এটি ঢাকার এক ব্যক্তি কিনে নিয়ে নিয়েছেন। এখন সিনেমা হলের সামনে দোকান ও ভেতরে অটোরিকশা চার্জ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও মজিবুর রহমান বলেন, আগে ঈদের দিন দুপুর থেকেই রাতের শো পর্যন্ত সিনেমা হলে প্রচণ্ড ভিড় থাকতো। টিকিট কাটতে না পেরে পরের দিনের জন্য অনেকেই অপেক্ষা করতো, আবার কেউ ব্ল‍্যাকারদের কাছ থেকে বাড়তি দামেও টিকিট কেটে সিনেমা দেখতো। সিনেমার হলের আশপাশে অনেক ভাতের হোটেল-রেস্টুরেন্টেও ভিড় থাকতো লক্ষণীয়। ঈদের সময় হলে সিনেমা দেখা যে কত আনন্দের, তা বলে বোঝাতে পারবো না।

রাজশাহীর তানোর গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি সারোয়ার হোসেন বলেন, আমার মনে পড়ে, ঈদে রাজশাহীসহ তানোরে নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে মানুষ দলবেঁধে হলে যেতেন সিনেমা দেখতে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই সিনেমা দেখতেন। এখন রাজশাহীতে একটাও সিনেমা হল নেই।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]