মানুষের ধোঁকা খেয়ে বিষধর সাপ পুষছেন রাজশাহীর আশরাফুল

আপলোড সময় : ১৭-০২-২০২৬ ০৬:১২:০১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০২-২০২৬ ০৬:১২:০১ অপরাহ্ন
নিকটজনের দ্বারা ধোঁকা-প্রতারণার শিকার হলে 'দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পুষেছি' কথাটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়৷ কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে বাস্তবে বিষধর সাপ পোষার ঘটনা বিরল। এবার সেই বিরল ঘটনার জন্ম দিলেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম (৪৫)। পেশায় তিনি একজন অটোমেকানিক।

বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের বিপদ-আপদে সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও নিজের বিপদে কাউকে পাশে পাননি আশরাফুল।ধোঁকার শিকার হয়ে মনোকষ্টে দূর প্রবাসে পাড়ি জমাতে দালালকে দিয়েছিলেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেখানেও হন প্রতারণার শিকার। ফলে মানুষের প্রতি আর বিশ্বাস বেঁচে নেই তার। তাই দুধ-ডিম দিয়ে পুষছেন বিষধর গোখরা সাপ। গত প্রায় তিন মাস পূর্বে আহত অবস্থায় গাছের গুঁড়িতে পড়ে ছিল সাপটি। সেটি উদ্ধার করে সুস্থ করে তুলেছেন আশরাফুল। তার মতে, ধোঁকাবাজ-প্রতারক মানুষদের বিশ্বাস করার চেয়ে অবলা প্রাণীকে বিশ্বাস করা দেঢ় ভালো।

তবে এ ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। পাড়া প্রতিবেশিরা যেমন ত্যক্ত, তেমনি বিরক্ত পরিবারের সদস্যরাও। বাড়িতে স্ত্রী পারভিন বেগম (৩৮) ছাড়াও রয়েছেন ছেলে শাওন ইসলাম (১৮) ও মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৯)। তারা নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কিত। তবে এসবে কান দিচ্ছেন না আশরাফুল।

প্রায় দুই ফুট লম্বা সাপটিকে রেখেছেন কবুতর, হাঁস মুরগি রাখা ঘরের টিনের চালার সঙ্গে ঝোলানো মাটির হাঁড়িতে।
দু-একদিন পরপর বের করে ডিম আর গরম দুধ খাওয়ান।

এ বিষয়ে আশরাফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ‘আমি বহু মানুষকে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু সব সময় ঠকেছি। কিছুদিন আগেও বিদেশ যাওয়ার জন্য দেওয়া ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মাইর গেল। আমি মানুষের পাশে থাকলেও আমার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। অনেকে আশা দেয়, কিন্তু কিছুই করে না। অনেককে টাকা ধার দিয়েছি। টাকা মেরে দিয়েছে। নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়ানো লোক আমি। কিন্তু যতক্ষণ আপনার পকেটে টাকা আছে, ততক্ষণ আপনার মূল্য আছে। পকেটে টাকা নাই, আপনার মূল্য নাই। তাহলে মানুষকে বিশ্বাস করবেন কী করে? একটা ভালো পরামর্শ, তা-ও দেবে না। মানুষের থেকে অবলা প্রাণীকে ভালোবাসা অনেক ভালো।’

আশরাফুলের প্রতিবেশী সুলতান ও মহিনুল  বলেন, এটা তো একটা ভয়ের বিষয়। সাপ তো আপন-পর চেনে না। কাকে কখন কামড়ে দেবে ঠিক নেই। এভাবে সাপ রাখার কারণে এলাকার লোকে তাকে পাগল বলে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। সাপ আসলে পোষ মানে না। হয়তো সাপ ধরার কৌশলটা তিনি রপ্ত করেছেন। তারপরও এ ধরনের বিষধর সাপ বাড়িতে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া বন্য প্রাণীকে এভাবে বাড়িতে রাখাটাও আইনবিরুদ্ধ কাজ। আমরা সাপটি জব্দ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]