ঢাকা বুধবার, জুন ৩, ২০২০
লাইলাতুল কদরের প্রত্যাশায় মুমিনের করণীয়
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২০-০৫-২১ ১৩:০৯:৪০
ফাইল ফটো

ইসলামীক ডেস্ক বিশ্বময় মহামারি করোনার দিনগুলোতেও মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ কৃপায় আমরা পবিত্র রমজানের রোজা রাখার সৌভাগ্য পাচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ। দেখতে দেখতে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে রহমত ও মাগফেরাতের দিনগুলো আর এখন নাজাতের দশকেরও প্রায় শেষ প্রান্তে রয়েছি। রমজানের শেষ দশকে অর্থাৎ নাজাত বা মুক্তির দশকে রয়েছে সৌভাগ্য রজনী লাইলাতুল কদর।

রমজানকে বিদায় দিতে গিয়ে আমাদের প্রিয় নেতা হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ও সাল্লামের এমনটি হয়ে থাকতো যে আধ্যাত্মিক বসন্ত নিজের চমক দেখিয়ে যখন বিদায় নেয়ার ক্ষণে পৌঁছে যেত তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমর বেঁধে নিতেন আর রমজানের কল্যাণরাজিতে নিজ ডালি ভরে নিতে কোনো ত্রুটি করতেন না।

হজরত রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেষ দশকের ইবাদত সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি- রমজানের শেষ দশকে প্রবেশ করলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমর বেঁধে নিতেন অর্থাৎ খুবই তৎপর হতেন এবং নিজ রাতগুলো ইবাদতের মাধ্যমে জীবিত করতেন। সাথে সাথে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরিবার পরিজনকেও জাগাতেন (বুখারি)

রমজানের এই শেষ দশকের একটি রাতে এসে থাকে লাইলাতুল কদর। এই দশকে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম লাইলাতুল কদরের অন্বেষণে রাতগুলো ইবাদতের মাধ্যমে জাগিয়ে রাখতেন।

লাইলাতুল কদর বা সৌভাগ্য রজনী লাভ বোধ করি একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সারা জীবন কঠোর সাধনা, ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে শয়তানী প্রবৃত্তিরূপে দৈত্যকে নিধন করার পর মুমিনের কাছে আসে সেই মুহূর্তটি-সেই পাওয়ার মুহ‚র্তটি যা আল কুরআনের সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ নামে আখ্যায়িত হয়েছে। হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এ মুহূর্তটি।

লাইলাতুল কদর বলতে আমরা সাধারণত একটি রাতকে মনে করে থাকি। ভৌগলিক কারণে সারা দুনিয়ায় যেহেতু একই সময়ে রাত থাকে না সেজন্যে লাইলাতুল কদরকে আমাদের গণনার একটি রাত নির্ধারণ করা সঠিক বলে মনে হয় না। লাইলাতুল কদর এমন একটি সময় মুমিনের ব্যক্তিগত জীবন বা জাতীয় তথা মিল্লাতী জীবনে রাতের ন্যায় কাজ করে থাকে।

মুমিন সাধনার শেষ লগ্নে তার প্রভুর দিদার বা দর্শন ও সান্নিধ্য লাভ করে বাক্যালাপে ভূষিত হয়। এ মুহূর্তটিই আসলে তার জীবনে লাইলাতুল কদর। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, এ মুহ‚র্তটি অবশ্যই মুমিনের জীবনে আসে রমজানের কঠোর সাধানার শেষ দশকে। রোজার সাধনার মাধ্যমে একজন মুমিন-মুত্তাকি বান্দা পানাহার ত্যাগ করে, নিদ্রাকে কম করে দিয়ে আল্লাহর স্মরণে সময় অতিবাহিত করে, যার প্রতিদান স্বরূপ সে এই সৌভাগ্য রজনী লাভে ধন্য হয়।

রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাতের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। শুধু রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে তালাশের নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাদিস পাঠে জানা যায়, হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত- হজরত মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কদরের রাত্রি সম্বন্ধে বলেছেন ‘রমজান মাসের শেষের দশ রাত্রিসমূহে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর।’ (বুখারি)

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন ‘তোমাদের কাছে রমজান এসেছে। রমজান মোবারক মাস। এর রোজা আল্লাহ তোমাদের প্রতি ফরজ করেছেন। এ মাসে বেহেশতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়েছে আর দোযখের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়েছে এবং দুষ্কৃতকারী শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়েছে। এ মাসের একটি রাত যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত, সে সকল প্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।’ (বুখারি)

হাদিস থেকে আরও জানা যায়, হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আমি লাইলাতুল কদর লাভ করলে কি করবো? মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতে বললেন-

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

উম্মতে মুহাম্মাদির মাঝে অনেকের ধারণা যে লাইলাতুল কদরের রাত বলতে কেবল ২৭ রমজানকেই বুঝায়। তাই এই রাতেই সবাই খুব বেশি ইবাদত-বন্দেগি করে থাকে। আর বাকি রাতগুলোতে তেমন ইবাদত করতে দেখা যায় না। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস থেকে আমরা এটাই জানতে পারি লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর যে কোনো একটি রাত।

তাই আমাদেরকে এই শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদরের অন্বেষণ করতে হবে। আর রমজান মাসের শেষ দিনগুলোতে আমাদের সবার বেশি বেশি উপরোক্ত দোয়াটি পাঠ করা উচিত।

তাই আসুন, রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে ইবাদতে আনি আমুল পরিবর্তন আর পুণ্যকাজের চেষ্টা সাধনা দ্বারা নিজকে কবুলিয়তে দোয়ার মোকামে উপনীত করতে আপ্রাণ প্রচেষ্টায় রত হই। সকাতর প্রার্থনা করি দয়াময় প্রভুর দরবারে, তিনি যেন আমাদেরকে ক্ষমা করে নাজাত দান করেন আর বিশ্বকে করেন করোনামুক্ত। আমিন।

রাজশাহীর সময় ডট কম২১ মে ২০২০

দোয়া ইউনুস পড়ার নিয়ম ও উপকারিতা
বিপদে ধৈর্যধারণ করা বীরত্বপূর্ণ কাজ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় ইসলামের নির্দেশনা