ঢাকা বুধবার, জুন ৩, ২০২০
‘আম্মু আমাকে বাঁচাও, কষ্ট সহ্য করতে পারছি না’
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২০-০৫-২০ ১৮:২৪:১০
‘আম্মু আমাকে বাঁচাও, কষ্ট সহ্য করতে পারছি না’

পাবনা প্রতিনিধি : কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত বছর বয়সী অনিক হোসেন। পেট ও চোখ-মুখ ফুলে গেছে তার। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে চোখের মণি। মাঝে মধ্যেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে অনিক। বলছে– ‘আল্লাহ আমাকে বাঁচাও, আর পারছি না। আম্মু আমাকে বাঁচাও। কষ্ট সহ্য করতে পারছি না।’

পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া গ্রামের দিনমজুর জহুরুল ইসলাম ও গৃহিণী লাভলী খাতুনের বড় ছেলে অনিক।

ছেলেটি যখন বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরায়, তখন পাশে বসে অঝোরে কাঁদেন মা। আর বাবা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। যন্ত্রণায় কাতর ছেলেকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পান না তারা।

জানা যায়, অনিক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। মাত্র আড়াই মাস আগেও করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর স্কুল ছুটি হওয়ায় অনিক সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকত। ঘুরেফিরে মায়ের কাছে খাবারের জন্য আবদার করত। নিয়মিত পড়াশোনা করত ভালো ফল করবে বলে।

অথচ কিডনির জটিল রোগে বিছানাই এখন তার নিত্যসঙ্গী। পেট ও বুকে অসহ্য যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে অনিক। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক চিকিৎসা শুরু করতে বললেও নিরুপায় বাবা টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না!

অনিকের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা। কোথায় পাবেন টাকা? কীভাবে করবেন ছেলের চিকিৎসা? এমন চিন্তায় দিশাহারা পুরো পরিবার।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টিনের দোচালা ঘরের একটি কোণে খালি গায়ে শুয়ে আছে অনিক। পেট ও চোখ-মুখ ফুলে গেছে তার। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে চোখের মণি।

বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, আড়াই মাস আগে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয় অনিক। জন্ডিস হয়েছে ভেবে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় কবিরাজের কাছে। কয়েক দিন চিকিৎসা করানোর পর রোগ না সারায় নিয়ে যান হোমিও চিকিৎসকের কাছে। সেখানেও একই অবস্থা।

পরে ধার-দেনা করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনিক জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত বলে জানান চিকিৎসকরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

তার চিকিৎসা করতে প্রয়োজন কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা। চিকিৎসা খরচের কথা শুনে দিশাহারা বাবা জহুরুল ছেলেকে ফিরিয়ে আনেন বাড়িতে। কয়েক শতক বাড়ির জায়গা ছাড়া কিছুই নেই অসহায় পরিবারটির, যা বিক্রি করলে চিকিৎসার অর্ধেক টাকাও হবে না। তাই টাকার অভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ অনিকের।

ছেলের বাঁচার আর্তনাদে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন মা লাভলী খাতুন। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘ছেলের বাঁচার আকুতি দেখে খুব কষ্ট হয়। আমি তো মা। এমন আর্তনাদ কীভাবে সহ্য করি। টাকার কাছে কী হেরে যাব আমরা?’ অনিককে সুস্থ করতে প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনিকের চিকিৎসার জন্য বাবা জহুরুল ইসলামের এই মোবাইল নাম্বারে সহযোগিতা পাঠাতে পারেন। বিকাশ- ০১৭৩৪৮২৩০১৩

রাজশাহীর সময় ডট কম২০ মে ২০২০

পাবনায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ১৩
পাবনায় দেহ থেকে দু’হাত বিচ্ছিন্ন করে যুবককে খুন করল দুর্বৃত্তরা
পাবনায় ছাত্রলীগ নেতার কাছে ১০লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি, উচ্ছেদের হুমকি কৃষকলীগ নেতার