ঢাকা বুধবার, জুন ৩, ২০২০
করোনা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে ১৩শ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২০-০৫-১৫ ১৯:৫৪:১৮
করোনা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে ১৩শ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

রাজশাহীর সময় ডেস্ক১৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট উন্নয়নসহ ১৯টি পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাতে জনবল নিয়োগকে উৎসাহিত করতে নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এক হাজার ৩৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বাকি অর্থ ব্যয় হবে সরকারের কোষাগার থেকে। নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ মোকাবিলায় এটি সরকার গৃহীত দ্বিতীয় প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের ঋণে প্রথম প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক স্থগিত থাকায় অনুমোদনের জন্য গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছিল। ‘কোভিড-১৯  ইমার্জেন্সি রেসপন্ড অ্যান্ড পেন্ডামিক রেসপন্স’ শীর্ষক প্রকল্পে এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

কমিশনের ওই কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আমরা প্রকল্পটির জিও জারি করেছি। এখন দরপত্রসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। করোনাভাইরাস সংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রকল্পটি অত্যন্ত দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। বাস্তবায়নও হবে দ্রুত।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের ১৭ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা ইউনিট দিয়ে সজ্জিত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পিসিআর মেশিন কেনাসহ পিসিআর ল্যাব স্থাপন, আইসিইউ স্থাপন এবং পিপিই ও মাস্ক কেনা হবে। এছাড়া কমপক্ষে ১৯টি পরীক্ষাগারের সক্ষমতা এবং গুণমানকে কোভিড-১৯ মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ডায়াগনস্টিক সুবিধা দিয়ে উন্নত করা হবে।

শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, জনবল নিয়েও কাজ করবে এই প্রকল্প। স্বাস্থ্য খাতের কমপক্ষে ৩ হাজার ৫০০ কর্মীকে (৫০ শতাংশ নারী) আধুনিক দক্ষতা ও জ্ঞানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এই প্রকল্পের আওতায়। আরও স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগকেও উৎসাহিত করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্ড অ্যান্ড প্যানডেমিক রেসপন্স’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবি’র ঋণ থেকে আসছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ— ৮৫০ কোটি টাকা (১০ কোটি ডলার)। বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে  ব্যয় হবে।

সূত্র জানায়, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুমোদন পায় করোনা মোকাবিলার প্রথম প্রকল্পটি। এক হাজার ১২৭ কোটি টাকার প্রকল্পটিও বিশেষ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সহজ শর্তের ৮৫০ কোটি টাকার ঋণের অর্থ ব্যয় হচ্ছে ওই প্রকল্পে। করোনা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্য খাতের আরও একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র।

এডিবি কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনা মোকাবিলার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সহায়তা দিতে গত ৩০ এপ্রিল স্বল্প সুদে ১০ কোটি ডলার (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে ৮৫০ কোটি টাকা) ঋণ অনুমোদন দেয় এডিবি। করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় দ্রুত গতিতে এ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে গত ৭ মে বাংলাদেশের জন্য আরও ৫০ কোটি ডলারের (৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) ঋণ অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। এডিবি বলছে, এই ঋণের টাকায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

রাজশাহীর সময় ডট কম – ১৫ মে, ২০২০

দেশের ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী ভয়াবহ করোনা ঝুঁকিতে তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে সংকট মোকাবেলার সুপারিশ
রোববার থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর অনুমতি দিল বিএসইসি
করোনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৃত্যু