ঢাকা রবিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২১
অতিরিক্ত চিন্তা ফেলতে পারে বড়ো বিপদে, মুক্তি পাবার উপায় জানুন
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২১-১০-২২ ১৭:৪৫:২৩
ফাইল ফটো

ফারহানা জেরিন এলমা : এক বিশেষজ্ঞ বলেন, অতিরিক্ত বা বিরক্তিকর চিন্তা শুধু আপনার মনের শান্তি অথবা আপনার সৃষ্টিশীলতায় বিঘ্ন ঘটায় তা নয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, একটা সময়ে আপনার বিষণ্ণতা এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলতে পারে এটা।

ওই বিশেষজ্ঞের কথায়, যখন আপনি অতিরিক্ত চিন্তা করছেন, আপনার মন চিন্তার আঁকাবাঁকা পথে ঘুরপাক খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, তখন পরিস্থিতির চাপে নিজেকে নেতিবাচক বিচারধারায় দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। চিন্তাগুলো আপনার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে হতে পারে। কিন্তু খোলা দৃষ্টিতে বিচার করলে দেখা যাবে, সেগুলোর বেশিরভাগই তুচ্ছ এবং আপনার মনকে ওই জটিল জাল থেকে বের করে আনাও সম্ভব।

এটা কোনো মানসিক ব্যাধি নয়!

অতিরিক্ত চিন্তা করা বহুবিধ সমস্যার উত্‍স। এতে অনেক বিপদও রয়েছে। স্বভাবতই এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার, অর্থাত্‍ সমস্যাটা সমাধানের পথ খোঁজাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ বলছেন, এটা মনে রাখা উচিত, অতিরিক্ত চিন্তা করা কোনো মানসিক ব্যাধি নয়।

আপনি যখন বেশ কিছুক্ষণ ধরে অতিরিক্ত চিন্তা করেন, তখন আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর তার প্রভাব কী ভাবে পড়ে, সে সব বিষয়েই হিন্দুস্তান টাইমস-এর কাছে বিস্তারিত জানিয়েছেন লাইটরুম থেরাপি অ্য়ান্ড কাউন্সেলিং-এর প্রতিষ্ঠাতা মনোবিজ্ঞানী গরিমা জুনেজা।

হতাশা এবং উদ্বেগ বাড়ায় অতিরিক্ত চিন্তা

বিশেষজ্ঞের কথায়, বেশির ভাগ সময়েই আমরা ফেলে আসা দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে চিন্তা করি। আবার বর্তমান ঘটনা নিয়েও দুশ্চিন্তা করি। ভবিষ্যত্‍ নিয়ে তো উদ্বেগের অন্ত নেই। এ সবই নেতিবাচক অনুভূতির মিলিত প্রভাব। এটা যদি দিনের পর দিন ধরে চলতে থাকে, তা হলে হতাশা বাড়তেই পারে। শুধু তাই নয়, জীবনের প্রতি অনীহা বাড়তে থাকে। এ ভাবেই বিষণ্ণতা আর উদ্বেগের অনুপ্রবেশ।

ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে আচরণ। অতিরিক্ত চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন অনেকেই। দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্বেগের কারণে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অর্থাত্‍, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তখন একলা হয়ে পড়ার ঝোঁক দেখা দিতে পারে।

কাজকর্ম লাটে উঠে যেতে পারে

অতিরিক্ত চিন্তার সুদূরপ্রসারী ফলাফলে গভীর প্রভাব পড়তে পারে দৈনন্দিন জীবনে। ঘুম উবে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়া, সে সবেরই প্রতিক্রিয়া। এ ভাবেই হারিয়ে যেতে পারে সুযোগ। পারিবারিক সম্পর্কে অথবা কর্মক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। সব মিলিয়ে নিজের দৈনন্দিন কাজকর্ম লাটে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে এক দিকে শক্তিক্ষয়, অন্য দিকে মেজাজ চালিত হতে পারে অন্য পথে। অথচ, এই চিন্তা, শক্তি অথবা সময়কে অন্য কোনো গঠনমূলক কাজে লাগানো যেতেই পারে।

কী ভাবে ঝেড়ে ফেলবেন অতিরিক্ত চিন্তা?

ব্যাপারটা এমন নয় যে, ওই অতিরিক্ত চিন্তাজনিত সমস্যার সমাধান নেই। অতিরিক্ত চিন্তা যদি আপনাকে কুরে খায়, তা হলে সে সম্পর্কে সচেতন হওয়াটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে বেশ কিছু উপায়ও বাতলে দিয়েছেন। সেগুলো দেখে নেওয়া যাক এক নজরে-

১. নিজের চিন্তার ধরনগুলো চিনতে হবে। তেমন পর্যায়ে পৌঁছোলে, নিজেকে থামান। মনে করুন, এই ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তাভাবনা যথেষ্ট হয়েছে।

২. ফিরতে হবে বাস্তবে। তার জন্য রয়েছে পাঁচটি ইন্দ্রিয়। সব ক'টাকেই সজাগ রাখুন। এখন কী ঘটছে, তাতে আরও বেশি করে মনোযোগ দিতে হবে।

৩. কোনো কিছু বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় দাঁড়ি টানতে লম্বা শ্বাস নিন। দেখুন চিন্তায় ছেদ পড়বেই। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোনিবেশ করার অভ্যাস করে দেখা যেতে পারে।

৪. একটা পুরনো বিষয় মনে রাখতে কেন বার বার সেটাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে? ডায়েরি লেখার অভ্যেস করলেই তো হয়। কোনো একটা চিন্তার খাঁজে মন আটকে থাকলে পত্রপত্রিকা পড়ুন। চিন্তাটা ঘুরে যেতে বাধ্য।

৫. তবে হ্যাঁ, শুধুমাত্র বর্তমান সময় নিয়ে ভাবলেই যে আপনি অন্তহীন চিন্তাসাগর থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন, তা নয়। তারচেয়ে জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে মাথা ঘামান। এটা কিন্তু আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে অব্যর্থ!

রাজশাহীর সময় /এএইচ

চেষ্টা করেও মা হতে পারছেন না? অজান্তেই কিছু ভুল করছেন না তো
শীতকালে বিশেষ ধরনের স্যুপ খেলে শরীর সুস্থ ও মানসিকভাবে চনমনে থাকে
শীতে বেড়াতে গেলে সঙ্গে যা রাখবেন