ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১
নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন যেভাবে
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২১-০৯-১৩ ১৮:৪৮:২১
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

অনলাইন ডেস্ক: প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার করছে সরকার। ২০২৩ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণির পিইসি, অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া নবম ও দশম শ্রেণিতে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা নামে বিভাগ তুলে দেয়া হচ্ছে।

সোমবার সচিবালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা উপস্থাপন বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, ১০ শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি বিষয় ঠিক করা হয়েছে। সেগুলো সবাই পড়বে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে গিয়ে ঐচ্ছিক বিষয়গুলো পড়বে শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্যে বিভাজন হবে উচ্চমাধ্যমিক থেকে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়ন কীভাবে হবে, এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে কোন শ্রেণিতে কিভাবে মূল্যায়ন তা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকের পরিবর্তন: নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র শতভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়াও ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে শিখনকালীন মূল্যায়ন করা হবে ৬০ ভাগ। বাকি ৪০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন করা হবে।

মাধ্যমিকে নতুনভাবে অনেক কিছুর সংযোজন: প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিকে একইভাবে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে শিখনকালীন মূল্যায়ন করা হবে ৬০ ভাগ। বাকি ৪০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন করা হয়েছে শতভাগ।

নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নেয়া হবে পাবলিক পরীক্ষা: এ পাবলিক পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে শিখনকালীন মূল্যায়ন করা হবে ৫০ ভাগ। বাকি ৫০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইভাবে জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন শতভাগ করা হয়েছে। তবে দশম শ্রেণি শেষে দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকেও পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আবশ্যিক বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ ভাগ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ ভাগ করা হয়েছে।

নৈর্বাচনিক/ বিশেষায়িত বিষয়: কাঠামো ও ধারণায়ান অনুযায়ী সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক, ব্যবহারিক ও অন্যান্য উপায়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। প্রায়োগিক বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ধরা হয়েছে শতভাগ।

পরীক্ষা হবে যেভাবে: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচির উপর প্রতি বর্ষ শেষে একটি করে পরীক্ষা নেয়া হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তাবনায় জানানো হয়, ২০২১ সাল শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রণয়ন এবং পাইলটিং এর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হবে। ২০২২ সালে নির্বাচিত বিদ্যালয়ে শিক্ষাক্রম ও শিখন-শেখানো সামগ্রী পাইলটিং করা হবে। ২০২৩ সালে প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম প্রবর্তন করা হবে। একইসঙ্গে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতেও এ শিক্ষাক্রম প্রবর্তন করা হবে।

২০২৪ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি ও অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষাক্রম প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণির শিক্ষাক্রম প্রবর্তন করা হবে। এছাড়াও ২০২৬ ও ২০২৭ সালে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রম পর্যায়ক্রমে প্রবর্তন করা হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত যে পরীক্ষা হবে না। এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আামি মনে করি এটি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা উচিত। পৃথিবীর বহু দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের দিতে হয় না।

সাবেক এ উপাচার্য বলেন, এতোদিন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার্থীতে রুপান্তরিত হতো। যে কারণে জ্ঞান সাধণায় শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশ কম ছিলো। দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোন বিভাজন না রাখাটাও অনেক বেশি উপযোগী।

তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক শিক্ষা নীতির যে কথা বলে আসছিলেন, বঙ্গবন্ধুর যে শিক্ষা দর্শন ছিলো সেটি কিছুটা হলেও এতে বাস্তবায়ন হয়েছে।

তবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদেরও ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এ জন্য শিক্ষকদেরকে প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

রাজশাহীর সময় / এফ কে

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে সুখবর
প্রাথমিকে অনুপস্থিত সাড়ে ৪৮ লাখ শিক্ষার্থী
মহান শিক্ষা দিবস আজ