ঢাকা মঙ্গলবার, জুলাই ২৭, ২০২১
রাজশাহীর কাঁটাখালিতে জমে উঠেছে শেষ মুহুর্তে কোরবানির হাট
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২১-০৭-২০ ২২:২৮:৪৫
রাজশাহীর কাঁটাখালিতে জমে উঠেছে শেষ মুহুর্তে কোরবানির হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন পবিত্র ইদ-উল- আজহা উপলক্ষে শেষ সময়ে জমেছে কোরবানির পশু কেনা-বেচা। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কষাকাষিতে জমে উটেছে শেষ মুহুর্তের কেনা-বেচা। পশুহাটে ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা মণ দর টার্গেটে কোরবানির পশু কিনছেন ক্রেতারা। কেউ কেউ পছন্দের উপর ভিত্তি করে একটু বেশি দাম হলেও কিনছেন কোরবানির পশু।

গতকাল সোমবার রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাঁটাখালিতে বসেছিল পশুর হাট।

কাঁটাখালির হাটে গিয়ে কথা হয় ক্রেতাদের সাথে। ক্রেতা হাবিব ও রুবেল জানান, অল্পদামে পছন্দের পশু কেনার লক্ষ্য সবার। তারা বলছেন- ২২ হাজার টাকা মণ দরে হলে প্রতিকেজি মাংসের দাম পড়ছে ৫৫০ টাকা। আর ২৪ হাজার টাকা মণ হলে ৬০০ টাকা। তবে কোরবানির পশু দাম নয়, পছন্দে কেনাবেচা হয়। এই হাটে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বরাবরের মতো এবারো বেশি। ৭০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে বেশি গরু কেনা-বেচা হয়েছে।

কাঁটাখালির হাটে গরু কিনতে এসেছেন মোজাম্মেল হক রনি ও সঙ্গে চারজন। তিনি বলেন, ছোটখাটো দেশী জাতের একটি গরু কিনেছি ৪৭,০০০/- টাকায়। গরু আমার পছন্দ হয়েছে তাছাড়া গরুটি দেখতেও ভালো। তাই বেশী দরদাম না করে কিনে ফেললাম। 

তবে করোনার এই মহামারি সময়ে হাটে বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির। একটি গরু কিনতে হাটে এসেছেন ৬ থেকে ৮ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই এসেছেন হাটে বেড়াতে। বেশিরভাগের মুখে মাস্ক থাকলেও মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে চলছে পশু কেনা-বেচা। অন্য দিনে হাটের প্রবেশমুখে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা গেলেও এদিন কোথাও চোখে পড়েনি। 

সরেজমিনে পশুহাটে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচুর গরু-মহিষ উঠেছে। ক্রেতারা বলছেন, হাটে ছোট-ছোট গরু হলেও ১ লাখ টাকা দাম চাচ্ছে বিক্রেতারা। যদিও দর কষাকষিতে কিছুটা কমছে। সেই হিসেবে তুলনামূলক দাম বেশি। বিক্রেতা ও খামারিরা বলছেন- দাম কম। তবে এদিন স্থানীয় ক্রেতা ছাড়াও এসেছেন দেশের দূরধুরান্তের ব্যবসায়ীরাও। তবে চাহিদা বেশি ষাড়ের। বলদা গরু কেনা-বেচা তুলনামূলক কম হচ্ছে বলে বিক্রিতারা জানান। হাটে ৪টি গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রতা রহিম আলী। তিনি জানান, দুইটি গরু বিক্রি করেছি দুপুরের আগে। মোটামুটি দাম পেলে এগুলোও বিক্রি করে দেবো। 

কাঁটাখালির হাটে ১ লাখ চার হাজার টাকায় গরু কিনে বেশ খুশি কনক ও তার কোরবানির ভাগিদাররা। তারা জানান, ‘প্রথমে দর্শনধারী পরে গুন বিচারি। গরুটি লাল রঙের হওয়ায় সবার পছন্দ হয়েছে। এছাড়া দামেও কম পেয়েছি বলে জানান তারা। 

জামাল নামের অপর ক্রেতা জানান, ‘সাত ভাগে কোরবানি। আমরা তিনজন এসেছি। ১ লাখ ২০ হাজারে গরু কিনেছি। আজ হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। একটা গরু কিনতে সাত থেকে ৮ জন মানুষ এসেছেন। সেই হিসেবে ১০ টা গরু কিনতে কম বেশি ৭৫ থেকে ৮০ জন এসেছে।’

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন ব্যবসায়ী ফিরোজ হোসেন। তিনি ১০টি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘হাটে গরুর দাম কমাচ্ছেন না বিক্রেতারা। যেমন-তেমন গরু হলেই লাখ টাকার উপরে দাম হাঁকছেন। আমার কেনা চারটি গরুর প্রত্যেকটি ১ লাখ ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা করে দাম পড়েছে। পুঠিয়ার খামারি ফারুক পাঁচটি গরু এনেছেন। একটি বিক্রি করেছেন ৯১ হাজার টাকায় । তার মুখে মাস্ক ছিল না। এ প্রসঙ্গ তিনি বলেন, ‘দরদাম করতে হচ্ছে। কথা শুনতে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। তাই নিচে নামিয়ে রেখেছিলাম। বার বার তোলা নামানোর ফলে ময়লা হয়ে গেছে। তাই ফেলে দিয়েছি। 

সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তর থেকে গরু, মহিষ ও ছাগল আসতে শুরু করেছে হাটে। সেই সাথে হাটে লোকজনের সমাগমও বাড়ছে। হাটে সব সময় মাইকিং করা হচ্ছে যেন মাস্ক মুখে থাকে এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা হয়। যদিও এত লোকের ভিড়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

রাজশাহীর সময় /এএইচ

রাজশাহী নগর পুলিশের অভিযানে আটক ২৩
রামেক হাসপাতালে আরও ২১ জনের মৃত্যু
রাজশাহীর মোহনপুরে ইয়াবা ও হেরোইনসহ মাদক কারবারী গ্রেফতার ১