ঢাকা মঙ্গলবার, জুলাই ২৭, ২০২১
চলে গেলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২১-০৭-২০ ১৬:০৮:৩৫
মিতা হক। ফাইল ফটো

তামান্না হাবিব নিশু : চলে গেলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ তীরে কেরাণীগঞ্জ এলাকা, যেখানে মা-বাবা এবং চাচা দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রপথিক, বরেণ্য রবীন্দ্র গবেষক এবং ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদুল হক স্থায়ী বসতি গড়েছেন। সেই কেরাণীগঞ্জেই শেষ ঘুমে গেলেন মিতা। মা-বাবার কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে 'ছায়ানট'-এর শিল্পীদের নিয়ে ৬০ দশকে ঢাকার রমনা বটমূলে 'এসো হে বৈশাখ এসো' অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন বরেণ্য রবীন্দ্রগবেষক, গায়ক, সংগঠক এবং সাংবাদিক ওয়াহিদুল হক। 'ছায়ানট'-এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা এবং শুদ্ধ রবীন্দ্রসংগীতের প্রসারে আমৃত্য নিবেদিত ছিলেন ওয়াহিদুল হক। সেই ওয়াহিদুল হকের ভ্রাতুষ্পুত্রী মিতা হক। চাচার কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি মিতার।

রবিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে প্রয়াত হন মিতা। কয়েক দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ দিন চারেক আগে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিডনির রোগে আক্রান্ত মিতা হকের নিয়মিত ডায়ালিসিস হত। তবে 'ছায়ানট'-এ নিয়মিতই আসতেন। রবিবার ভোর রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানেই চিচিত্‍সাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন মিতা।

কথা অনুযায়ী বেলা ১১টা নাগাদ তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় 'ছায়ানট'-এ। খবর পেয়ে এখানেই ছুটে আসেন তাঁর গুণমুগ্ধরা। তাঁরা ফুল আর অশ্রুতে শেষ বিদায় জানান মিতা হককে। 'সুরতীর্থ' নামের একটি সংগীতপ্রতিষ্ঠান ছিল তাঁর। সেখানে পরিচালক ও প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তবে 'ছায়ানট' ছিল তাঁর হৃদস্পন্দন। এই সংগঠনটির ছায়াতেই নিজের বিকাশ ও বেড়ে ওঠা। এক পর্যায়ে 'ছায়ানট'-এর রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে।

শিল্পীর জন্ম ১৯৬৩ সালে। প্রথমে চাচা ওয়াহিদুল হক এবং পরে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খান ও সনজীদা খাতুনের কাছে গান শেখেন। ১৯৭৪ সালে তিনি বার্লিন আন্তর্জাতিক যুব ফেস্টিভালে যোগ দেন। ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করেছেন। তাঁর স্বামী অভিনেতা ও নির্দেশক খালেদ খান বেশ ক' বছর আগে প্রয়াত হন। একমাত্র মেয়ে জয়িতাও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। তাঁর স্বামী অভিনেতা মুস্তাফিজ শাহিন।

১৯৯০ সালে 'বিউটি কর্নার' থেকে প্রকাশিত হয় মিতা হকের প্রথম রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম 'আমার মন মানে না'। সংগীতায়োজনে ছিলেন সুজেয় শ্যাম। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০টি রবীন্দ্রসংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তাঁর একক অ্যালবামের সংখ্যা ২৪টি, যার ১৪টি ভারত থেকে ও ১০টি বাংলাদেশ প্রকাশ পায়। শিল্পী মিতা হক ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২০ সালে একুশে পদক পান।

রাজশাহীর সময় /এএইচ

কল্পবিজ্ঞান নির্ভর ছবির কাজ শুরু
প্রেমে ব্যর্থ হলেও সংসারে সুখী তারা
৫০-পেরিয়েও জেনিফারের স্টানিং ফিগার