ঢাকা মঙ্গলবার, জুলাই ২৭, ২০২১
আমদানি-রফতানি সচল রেখে লকডাউন, করোনা ঝুঁকিতে বেনাপোল
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২১-০৬-১৭ ১৩:০২:১৩
বেনাপোল স্থল বন্দর, ফাইল ফটো

অনলাইন ডেস্ক: ভারত সীমান্তলগ্ন শহর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থল বন্দর। এই শহরে প্রতিদিন করোনা পজিটিভ সংক্রমণ আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফলে গতকাল বুধবার (১৬ জুন) বেনাপোলে বিকাল থেকে শার্শা উপজেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করেছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হারও বেশি। তবে অধিকাংশ লোক শ্বাস কষ্ট জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করছে। এ সব রোগীরা করোনা সংক্রামণ এর পরীক্ষা না করায় অনেকে ধারনা করছে তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করছেন।

করোনা সংক্রমণ রোধের জন্য লকডাউন দিলেও ভারতীয় আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ না থাকায় করোনা সংক্রমণ জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে । ভারতীয় ট্রাক চালকরা প্রতিদিন প্রায় ৬শ থেকে ৮ শ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আবার বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ভারতে প্রায় ২শ থেকে ৩শ চালক প্রবেশ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ সরকার বাণিজ্য সচল রেখে লকডাউন ঘোষণা দিলেও করোনা সংক্রমণ জীবাণু হ্রাস পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ প্রতিদিন ভারত থেকে যে সব ট্রাক চালক ও হেলপার বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এরা সারাদিন এই শহরে ঘোরাফেরা করে। আবার বেনাপোল রফতানি পণ্যবাহী যে সব ট্রাক চালক হেলপার ভারতে প্রবেশ করছে তারা সেদেশে এলোমেলো ঘোরাফেরা করে পরীক্ষা ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছে। এতে করে বেনাপোল-শার্শা এলাকায় করোনা সংক্রমনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই দিনে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে করোনা পজিটিভে আক্রান্ত হয়েছে ২৭ জন।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ভারত থেকে যে সব পাসপোর্ট যাত্রী আসছে তারা পরীক্ষা করে দেশে প্রবেশ করছে। তারপরও তাদের ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। অপরদিকে প্রতিদিন ভারত বাংলাদেশে ট্রাক চালক যাতায়াত আছে হাজারের উপরে। তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা বাদে অবাধে যাতায়াত করছে। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের চেয়ে জীবন অনেক বড়। তাই এই মুহূর্তে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

অপরদিকে বেনাপোল শহরে বিজিবি ও পুলিশ বাহিনী করোনা প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে মাঠে নামলেও ফলাফল খুব একটা সুবিধা জনক হচ্ছে না বলে অনেকে মন্তব্য করেন। কারণ ভারতীয় ট্রাক চালকদের যত বাধা প্রদান করা হচ্ছে তারা অলিগলির ফাঁকফোকর দিয়ে বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। আবার অনেকে সন্ধ্যার সময় ভারতে যেয়ে পরদিন সকালে ফিরছে বাংলাদেশে। এছাড়া যারা রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ভারতে গমন করছে। তারা ফিরে এসে জনগণের সাথে মিশে যাচ্ছে। তাদের বেলায় পাসপোর্ট যাত্রীদের মত কোন বিধি-নিষেধ নেই কোয়ারেন্টাইনে থাকার। স্বাস্থ্য বিধির সকল আইন কানুন উপেক্ষা করে ভারত থেকে ফিরে এসে জন-সমাগমস্থলে মিশে যাচ্ছে।

বেনাপোলের মুক্তা এন্টারপ্রাইজ নামে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী এম এ মুন্নাফ বলেন, দ্রুত আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধের প্রয়োজন। তা নাহলে করোনা সংক্রমণ শুধু বেনাপোল নয় গোটা দেশে বাসা বাঁধবে।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ১৪ জুন শার্শা উপজেলায় পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২৬ জন, ১৫ জুন পাওয়া গেছে ২২ জন এবং আর টি পিসিআর রিপোর্ট বাদে ১৬ জুন পাওয়া গেছে পাঁচজন। যশোর থেকে আরটি পিসিআর রিপোর্ট এলে আক্রান্ত পাঁচ জনের সাথে আরও সংখ্যা যোগ হবে।

রাজশাহীর সময় / এফ কে

চুয়াডাঙ্গায় করোনা-উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
খুলনার চার হাসপাতালে একদিনে আরও ১১ জনের মৃত্যু
শৈলকুপায় আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা