ঢাকা রবিবার, জুন ২০, ২০২১
পুঠিয়ার গরিব-দুস্থদের তালিকায় সচ্ছলদের নাম
  • rajshahirsomoy dex
  • ২০২১-০৬-১১ ১৫:৪৩:৫৯
পুঠিয়ার গরিব-দুস্থদের তালিকায় সচ্ছলদের নাম

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীর পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়নে গরিব ও দুস্থ নারীদের নামের পরিবর্তে ভিজিডির খাদ্য তালিকায় সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম আসার অভিযোগ উঠেছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত গরিব, অসহায় ও দুস্থ নারীরা। পুরো জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার ৩১৯ সুবিধাভোগীর মধ্যে অধিকাংশই সচ্ছল পরিবারের সদস্য। 

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অর্থের বিনিময় তাদের পছন্দের নারীদের নাম ভিজিডির চূড়ান্ত তালিকায় রেখেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়নের কানাইপাড়া গ্রামের আতাহার আলীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম নিজেকে দুস্থ নারী হিসাবে দেখিয়ে ভিজিডির আওতায় এসেছেন। অথচ তাদের নিজস্ব কয়েক বিঘা ফসলিজমি রয়েছে। সে সঙ্গে একটি আধুনিক ফ্ল্যাট বাড়িও রয়েছে।

একই গ্রামের এনামুল হকের স্ত্রী রুমা বেগমও প্রভাবশালী। তার ছেলে থাকেন প্রবাসে। সে সুবাদে জমি-জমাসহ তার রয়েছে ভালো মানের বাড়ি। তিনিও রয়েছেন দুস্থদের জন্য তৈরি করা এ ভিজিডির তালিকায়।
এদিকে হলহলিয়া গ্রামের সুজিত কুমার সরকারের স্ত্রী অর্পণা রাণীর বাড়িসহ রয়েছে কয়েক বিঘা জমি। সম্প্রতি প্রায় ১০ লাখ টাকায় আরও এক বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসহায় ও দুস্থ নারীদের বাদ দিয়ে ভিজিডির কার্ড বিক্রি করা হচ্ছে দুই-পাঁচ হাজার টাকায়।

হলহলিয়া গ্রামের জতিন সরকারের স্ত্রী মানিতা রানী দরকষাকষির মাধ্যমে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে নিয়েছেন কার্ড। তিনি বলেন, ‘এ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হেলেনা বেগম কার্ড করার কথা বলে আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে অনেক আকুতি-মিনতি করে দুই হাজার টাকা নিয়ে এ কার্ড করে দেন তিনি।

পশ্চিম কানাইপাড়া-পালপাড়া গ্রামের শেফালী রানী বলেন, ‘আমাদের পরিবার অনেক অসচ্ছল। একটা ভিজিডির কার্ডের জন্য পরিষদের অনেক ঘুরেছি। কিন্তু কোনোভাবেই কার্ড পাইনি। অবশেষে নারী মেম্বার হেলেনা বেগম কার্ড দেয়ার নামে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনও সে কার্ড পাইনি। এখন আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না তিনি।

অর্থের বিনিময় সচ্ছলদের ভিজিডির তালিকায় নাম দেয়ার বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮, ৯নং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হেলেনা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষ খুব খারাপ। টাকা নিলেও দোষ, না নিলেও দোষ। তবে আমি কাউকে টাকার বিনিময়ে কার্ড দেইনি। মানুষ আমার নামে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে। গরিবদের নামেই তালিকা দিয়েছি।

জিউপাড়া ইউপি সচিব সাইদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে চলতি ভিজিডির চূড়ান্ত তালিকা করা হয়। তালিকায় পুরো ইউপিতে ৩১৯ জন সুবিধাভোগী নারী রয়েছেন। এদের সকলকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। যা আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জিউপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা বেগম বলেন, অর্থের বিনিময়ে ভিজিডির কার্ড দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তালিকা তৈরি করা ওই নারী সদস্যদের বলা হয়েছিল সচ্ছল নয়, দুস্থদের নাম দেয়ার জন্য। তবে এ ব্যাপারে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ডালিয়া পারভীন বলেন, ‘আমার একার পক্ষে পুরো উপজেলার সব তালিকা তদারকি করা সম্ভব নয়। তাই ইউপি চেয়ারম্যানদের দেয়া তথ্য মতে ভিজিডির চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জিউপাড়া ইউপিতে কয়েকজনের নামের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় তাদের বাদ দেয়া হয়। আর নিয়ম অনুসারে কর্মসূচির ছয়মাস পার হয়ে গেলে নাম বাদ দেয়া সম্ভব হয় না। তবে কেউ মারা গেলে তার পরির্বতে আরেকজনকে তালিকাভুক্ত করা যায়। জাগো নিউজ।

রাজশাহীর সময় / জি আর

 

রাজশাহীতে ঘর পাচ্ছেন ৮৫৪ গৃহহীন পরিবার
মোহনপুরে গৃহবধূর আত্মহত্যা
রাজশাহী মহানগরীতে ফেন্সিডিলসহ মাদক কাববারী গ্রেফতার ১