ঢাকা মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০
এক টাকাও ব্যয় করেনি ১৬ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২০-০৯-২৬ ১২:২৮:৪৬
ফাইল ফটো

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি ১৬ ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ৮ ব্যাংক ও ৮ নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। করোনাকালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের প্রবণতা কমে যাওয়াকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় না করা ব্যাংক ৮টি হচ্ছে- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, বিদেশি কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এছাড়া ৮টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হল- অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। এ সময় সিএসআর খাতে খুব সামান্য ব্যয় করেছে আরও ১৪টি ব্যাংক। যাদের সামাজিক কার্যক্রমে ব্যয়ের পরিমাণ এক কোটি টাকারও নিচে। অন্যদিকে আইডিএলসি, আইপিডিসি, লংকাবাংলা ও উত্তরা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ব্যয় লাখের ঘরেই সীমাবদ্ধ।

এতদিন বিষয়টি ঐচ্ছিক থাকায় এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তেমন কিছু বলার ছিল না। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কর্মসূচির ৬০ শতাংশই করোনা সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যথায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার মোরশেদ মিল্লাত যুগান্তরকে বলেন, যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে তা ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। এখানে সিএসআরের বিষয়টি ঐচ্ছিক ছিল। সে কারণে যারা সিএসআর খাতে ব্যয় করেনি তাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী ‘নিট প্রফিট আফটার টেক্স’ সরকারকে আয়কর দেয়াসহ যাবতীয় খরচ শেষে কোনো ব্যাংক লাভে থাকলে সে ব্যাংককে করোনা উপলক্ষে সিএসআর বাবদ লাভের ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যাংক এ আদেশ অমান্য করলে তাকে অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হবে। সে হিসাবে ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে কোনো ব্যাংক উল্লিখিত নিট লাভে থাকার পরও ১০০ টাকায় ৬০ টাকা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় না করলে সে ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়ে নেগেটিভ পয়েন্ট যোগ হবে। এটাই শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছে প্রায় ৫১৭ কোটি টাকা, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় প্রায় ১০৮ কোটি টাকা বেশি। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খাতটির ব্যয় ছিল প্রায় ৪০৯ কোটি টাকা। একইভাবে ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে সব নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে প্রায় ১২ কোটি টাকা, যা আগের ষান্মাসিকের তুলনায় প্রায় ৯ কোটি টাকা বেশি। ২০১৯ সালের শেষ ছয় মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআর খাতে ব্যয় করেছিল প্রায় ৩ কোটি টাকা। এদিকে গত ১৭ জুন এক প্রজ্ঞাপনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সিএসআর কর্মসূচির ব্যয়ের ৬০ শতাংশই স্বাস্থ্য খাতে করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা উপকরণ ও সুরক্ষাসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে নির্ধারিত ব্যয়ের যে সীমা রয়েছে তা নিশ্চিত করতেও বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সিএসআর ব্যয় বণ্টনে স্বাস্থ্য খাতে ৬০ শতাংশ ছাড়াও শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশ এবং জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল খাতে ১০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বিবেচনায় কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতে নির্ধারিত ৬০ শতাংশ ব্যয়ের পরিমাণ এবং যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ফরম্যাটে এ সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্য পাঠানোর কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

রাজশাহীর সময় ডট কম –২৬  সেপ্টেম্বর ২০২০

মহামারির ৩ মাসে কোটি টাকা খরচ বেড়েছে ১৬ ব্যাংকের এমডির
২৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি করবে টিসিবি
ঋণ শোধের সীমা আরও না বাড়ালে সুফল মিলবে না