ঢাকা সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০
পেঁয়াজের শুল্ক প্রত্যাহারে আপত্তি এনবিআরের
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২০-০৯-১৬ ১২:৩১:০২
ফাইল ফটো

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদন আমলে নেয়নি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

এতে দেশের পেঁয়াজ চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভোক্তারাও শুল্ক প্রত্যাহারের সুফল পাবে না বলে মনে করে সংস্থাটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এনবিআর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারে এনবিআরে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর এনবিআর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শুল্ক প্রত্যাহারে অপারগতা জানিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এনবিআরকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য চিঠি দিয়েছে।

এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশীয় পেঁয়াজ চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ প্রদান ও আমদানি নির্ভরশীলতা হ্রাসে চলতি বাজেটে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। পেঁয়াজের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করলে দেশীয় পেঁয়াজ চাষীরা ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে এবং আমদানি নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। এতে দেশীয় চাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এছাড়া পেঁয়াজের বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ক ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব সৃষ্টি করবে না।

এর জবাবে গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান সময় পেঁয়াজ উৎপাদনের মৌসুম নয়। ফলে শুল্ক বহাল রাখার মাধ্যমে চাষীদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে মর্মে প্রতীয়মান হয় না। মোট চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে এবং এ আমদানির সিংহভাগ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে হয়ে থাকে।

কিন্তু সোমবার ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত হবেন, তেমনি পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে। পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পুনরায় শুল্ক আরোপ করা যুক্তিযুক্ত হবে।

গত ৭ সেপ্টেম্বরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার আংশিক আমদানিনির্ভর একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। নিকট অতীতে পেঁয়াজের বাজার বেশ কয়েকবার অস্থিতিশীল হয়েছে। গত অর্থবছরে এই সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পণ্যটির মূল্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়া এর একটি অন্যতম কারণ।

গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর-মার্চ সময়ে পেঁয়াজের ওপর আমদানি শুল্ক ছিল না, তারপরও আমদানি হ্রাস পাওয়ায় এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় অনুৎপাদনশীল সময় হিসেবে পরিচিত সেপ্টেম্বর-মার্চ সময়ে দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর এক চিঠিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ স্থলবন্দর (বেনাপোল, ভোমরা, সোনা মসজিদ, হিলি) এবং সমুদ্র বন্দর থেকে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রাজশাহীর সময় ডট কম – ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘স্বর্ণ রফতানিতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে সরকার’
সহজ শর্তে টাকার জোগানে মূল্যস্ফীতি ঝুঁকিতে
এক টাকাও ব্যয় করেনি ১৬ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান