বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন

আবাহনীর বিপক্ষে দারুণ জয় রাসেলের

আবাহনীর বিপক্ষে দারুণ জয় রাসেলের

ক্রিড়া ডেস্ক : শেখ রাসেলের ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে মাথা নুইয়েছে চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। এক গোল করার পর নিজেদের গোলমুখে ছিপি এঁটে দিয়ে রাসেল ১-০ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচজয়ী রাসেল খেলবে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে আর গ্রুপ রানার্স-আপ আবাহনী মুখোমুখি হবে আরামবাগের। ওদিকে ফাঁড়া কেটেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের। আগেরবার অভিষেক মৌসুমে ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও এবার তারা টানা দুই ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আগের ম্যাচে বিজেএমসিকে হারানোর পর কাল ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছে ব্রাদার্সের বিপক্ষে। ‘সি’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে কোয়ার্টারে গেছে বিজেএমসি।

ম্যাচের শুরু থেকে শেখ রাসেলের দাপুটে উপস্থিতি মাঠে। পাসিং ফুটবল খেলে আবাহনীকে কোণঠাসা করে রাখে। সঙ্গে বিশ্বনাথের চোখ ধাঁধানো দুটি শট সত্যিই ভয় পাইয়ে দিয়েছে আকাশি-নীলদের। কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ ছেড়ে দিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। চ্যাম্পিয়নরা মনের সুখে খেলেছে তবে রাসেল সুসংগঠিত রক্ষণের আগ পর্যন্ত। ওই সীমানায় ঢুকতে গিয়েই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ফিরেছে নিরাশ হয়ে। আবাহনীর অ্যাটাকিং থার্ডে দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড সানডে ও বেলফোর্ট থাকলেও ম্যাচ ঘোরাতে পারেননি। ওখানে দ্রুত পাসিং ফুটবল খেলে রক্ষণ ভাঙার কাজটি করতে পারেনি।

কাল শেখ রাসেলের বিশ্বনাথের কী যেন হয়েছিল! দুমদাম শট করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন। তাঁকে সবাই চেনে লম্বা থ্রো-ইনের জন্য, এর সঙ্গে বুঝি এবার নতুন সংযোজন হয়েছে বুলেট গতির শট। হয়তো বা প্রাক-মৌসুমে শ্যুটিং প্র্যাকটিসের সুফল। ১৩ মিনিটে এই ফুলব্যাক ডান দিক থেকে জোরালো এক শট নিয়ে বসেন। হতে পারে দূরপাল্লার শটে প্রায়ই ফ্লাইট মিস করা গোলরক্ষক শহীদুলকে দেখেই শটের নেশায় পেয়ে বসেছিল তাঁকে। সর্বশেষ সাফে এমন গোল খেয়ে দলের বারোটা বাজালেও এবার তিনি ভুল করেননি। তাঁর হাতে একটুখানি লেগেছে বলেই বল গোলে যায়নি। ২৯ মিনিটে আবার সেই গোলার মতো শট, এবার শহীদুলকে ফাঁকি দিয়েও ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে। সেই ফিরতি বলে মেজবাহর তুলে দেওয়া বলটি হেডে আবাহনীর জালে পৌঁছে দেন উজবেকিস্তানের আজিজভ আলিশের।

এরপর শুরু হয় পিছিয়ে পড়া আবাহনীর সংগ্রাম। ৪৫ মিনিটে সানডের বাড়ানো বলে রুবেলের সামনে সুযোগ এলেও তিনি শট নেননি পোস্টে। পারেননি নাবিব নেওয়াজকে দিয়ে ফিনিশ করতে। ৫৪ মিনিটে হাইতিয়ান বেলফোর্ট ও নাইজেরিয়ান সানডের পা ঘুরে বল পড়ে নাবিব নেওয়াজের সামনে, কিন্তু উন্মুক্ত গোলপোস্ট ছেড়ে মেরেছেন তিনি বাইরে। দু-তিনটি ব্যর্থতা আছে আবাহনী ফরোয়ার্ডদের তবে অ্যালিসন উদোকার নেতৃত্বে রাসেলের রক্ষণভাগ ছিল দুর্দান্ত।সূত্র:কালের কণ্ঠ।

দিনের অন্য ম্যাচে ১৩ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় সাইফ স্পোর্টিং। বিদেশির ভিড়ে জেগে ওঠেন এক দেশি ডিফেন্ডার। কলম্বিয়ান দেনের করদোবার বাড়ানো বলের ওপর প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে রহমত মিয়া লক্ষ্য ভেদ করেন দুর্দান্ত এক শটে। গোল হজমের পরও ব্রাদার্সের খেলার কোনো উন্নতি হয়নি। ইরাক-ব্রাজিল-পানামার ফুটবলারে গড়া বহুজাতিক ব্রাদার্স ইউনিয়ন ভীতি জাগানিয়া কিছু করতে পারেনি প্রতিপক্ষের রক্ষণে। সাইফের দাপটের আরেক স্মারক হয় ৩১ মিনিটের দ্বিতীয় গোলটি। ম্যাচের দুর্দান্ত পারফরমার দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড সেয়ুং ইল পাকের্র ক্রসটি গোলরক্ষক পাঞ্চ করেও ঠিকঠাক বিপদমুক্ত করতে পারেননি। হেডে জালে পৌঁছে দেন দেশি মিডফিল্ডার জাবেদ খান। ৪০ মিনিটে ব্রাদার্স রক্ষণের ভুলে তারা পেয়ে যায় তৃতীয় গোল, এটি করেন রুশ দেনিস বলশাকভ। ৩-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া সাইফ দ্বিতীয়ার্ধেও খেলেছে সেই আধিপত্য বজায় রেখে এবং যোগ করে আরো দুই গোল। ৮৩ মিনিটে জাফর ইকবালের তুলে দেওয়া বলটি চমৎকার ভলিতে জালে পৌঁছে দেন সাজ্জাদ হোসেন। এরপর ইনজুরি টাইমে রুশ ফরোয়ার্ড বলশাকভ নিজের দ্বিতীয় গোল করলে সাইফ স্পোর্টিং ৫-০ গোলের বড় জয় নিয়ে পৌঁছে যায় ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

রাজশাহীর সময় ডট কম০৬ নভেম্বর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com