বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:২১ অপরাহ্ন

সংলাপে শেখ হাসিনার কাছে যেভাবে ধরা খেলেন মওদুদ আহমেদ

সংলাপে শেখ হাসিনার কাছে যেভাবে ধরা খেলেন মওদুদ আহমেদ

রাজশাহীর সময় ডেস্ক :  পহেলা নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপ অনুষ্ঠানে নিজের ভুলেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেখতে গেলে সে সময় মওদুদ আহমেদ প্রধানন্ত্রীকে দেখেও গেট খোলেননি বলে অভিযোগ করলে বিব্রত হয়ে উল্টাপাল্টা তথ্য দিতে শুরু করেন মওদুদ।

জানা গেছে, সংলাপের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে গুলশানে গিয়েছিলাম, আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মওদুদ সাহেব ভেতরে ছিলেন, গেট খোলেননি।’

এর প্রত্যুত্তরে তিনি ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলে উল্লেখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম না।’ পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গেটের ফাঁক দিয়ে আমি আপনাকে দেখেছি।’ তখন বিব্রত হয়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমি উপরে ছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু গেট খোলার ব্যাপারে কিছু বলেননি।’ মওদুদ বলেন, ‘আমি যে রুমে ছিলাম, সেখানে বারান্দা ছিল না।’

এমন প্রেক্ষাপটে মওদুদসহ বিএনপি নেতাদের নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। বলা হচ্ছে, মিথ্যা বলা বিএনপির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেননা, ওইদিন মওদুদ আহমেদ খালেদা জিয়ার বাড়িতে উপস্থিত থেকেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিথ্যার আশ্রয় নেন। যা তার ভাষাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে এই সত্যও উন্মোচিত হয় যে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের চাপের কাছে মওদুদসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অসহায়। মওদুদ আহমেদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মওদুদ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে ভেতরে নিতে পারেননি। সে সময় এ বিষয়ে মওদুদ তার ঘনিষ্ঠজন আব্দুল হালিমের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। যা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনাতেও এসেছিলো।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, মওদুদ আহমেদের ধরাশায়ী প্রত্যুত্তর এবং তার নিরূপায় অবস্থার কথা বিবেচনায় এনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মওদুদ আহমেদ বোকার মতো কাজ করেছেন। তবে তিনি আসলে পরিস্থিতির স্বীকার। তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে বাঁধা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, মওদুদ আহমেদ আসলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছিলো। তিনি জানতেন তা কেবল বৃথা চেষ্টা হবে। তিনি নিজেও জানতেন তিনি যা বলবেন তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ সে সময়ই তিনি এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, যা ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছিলো। তবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনি থতমত খেয়ে বিষয়টিকে সাংঘর্ষিক করে তুলেছেন। তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দলের হাইকমান্ডের আক্রোশের কারণে মওদুদ আহমেদ দরজা খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কেননা, প্রথমে তিনি ওই বাড়িতে ‘ছিলেন না’ বলে দাবি করলেও পরক্ষণেই তিনি বলেছেন, আমি উপরের ঘরে ছিলাম।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকো হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। একজন মা হিসেবে খালেদা জিয়াকে সান্ত্বনা জানাতে ছুঁটে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে বিএনপি নেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে কার্যালয়ের মূল ফটকই খোলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গীরা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে দেখা না পেয়ে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

যদিও মানবিকতাকে ছাপিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে বিজয়ের হাসি হাসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জনগণ তার এ বিবেকবর্জিত কর্মকাণ্ড ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছিলো।সূত্র: বাংলা নিউজ পোস্ট

রাজশাহীর সময় ডট কম ০৪ নভেম্বর, ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com