সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:১০ অপরাহ্ন

‘কয়েকদিন ধরেই দেবী’র ঘোরে আছি’

‘কয়েকদিন ধরেই দেবী’র ঘোরে আছি’

আমার চলচ্চিত্র অভিনয় জীবনের শুরুটাও হুমায়ূন আহমেদ স্যারের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। আমি জানি, উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের কত চাপ, কত ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকে। তবে সবকিছুই উতরে অনম বিশ্বাস মন ছুঁয়ে যাওয়া একটি চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন আমাদের। গল্প তো জানা ছিলই, চিত্রনাট্য ও সংলাপ দেখে কখনো হেসেছি, কখনো ভয়ে পপকর্ন ফেলে দিয়েছি,

জয়া আহসান এতদিন আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেত্রী ছিলেন। তবে এখন অভিনেত্রী সত্তাকে ছাপিয়ে তিনি একজন প্রযোজক হিসেবে যা দেখালেন, তা এক কথায় ম্যাজিকাল। একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সে চলচ্চিত্রের প্রতি তার যে দরদ তিনি দেখিয়েছেন, স্যালুট। জয়া আহসানকে ধন্যবাদ, অনম বিশ্বাসের মতো একজন পরিচালককে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে উপহার দেবার জন্য। আমার বিশ্বাস, অনম বিশ্বাস মৌলিক কাহিনির চলচ্চিত্রে আমাদের আরো অনেক বেশি চমকে দেবেন। সে ইঙ্গিত আমি পেয়েছি।

চঞ্চল চৌধুরী গুণী অভিনেতা, প্রতিটি চলচ্চিত্রে পরীক্ষিত আমরা জানি। তবে এ চলচ্চিত্রে তাকে সুঁতোর ওপর দিয়ে অভিনয় করতে হয়েছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসে নিজেকে ভাঙতে হয়েছে। খালি চোখে হয়তো আমরা উপন্যাসের মিসির আলির সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছি, আর এটাই স্বাভাবিক। তবে চঞ্চল চৌধুরী তার মতো করে আমাদের নতুন এক মিসির আলি উপহার দিয়ে আমাকে চমকে দিয়েছেন।

জয়া আহসান স্বনামধন্য অভিনেত্রী, দুই বাংলায়। তবে ‘রানু’ চরিত্রে তিনি যা করেছেন, তা দুই বাংলায় অন্য কোনো অভিনেত্রী করতে পারতেন কিনা, সন্দেহ। সত্যি বলতে, জয়া আহসানকে প্রতিটি ফ্রেমে দেখছিলাম, আর মনে হচ্ছিলো, তার খুব শিগগিরই অভিনেয়র স্কুল খোলা প্রয়োজন। আমি সেই স্কুলে প্রথম ভর্তি হবো। গেরিলা, ভালোবাসার শহর, রাজকাহিনি, বিসর্জন-এই নামগুলোর পাশে ‘দেবী’-ও এবার যুক্ত হলো। জয়া আহসান, আমি মুগ্ধ। আমি গর্বিত ,আপনার সাথে চলচ্চিত্রে আমার অভিনয় করার সৌভাগ্য হয়েছিল।

শবনম ফারিয়া আমার নাটকের সহকর্মী। সত্যি বলতে, ফারিয়ার কাছ থেকে খুব বেশি আশা ছিল না। তবে ফারিয়াও নীলু চরিত্রে আমাকে চমকে দিয়েছে। এর কৃতিত্ব ফারিয়ার তো অবশ্যই, সেই সাথে নির্মাতারও। দারুণ লেগেছে ফারিয়াকে।

অনিমেষ আইচ গুণী পরিচালক আমরা জানি। তবে অভিনয়েও এবার তিনি বেশ সাবলীল। ‘আনিস’ চরিত্রে তাকে রানুর স্বামীই মনে হয়েছে, খুব বিশ্বাসযোগ্য লেগেছে। ইরেশ যাকেরকে নিয়ে কি বলবো? তিনি যে চরিত্রই ধারণ করেন, সে চরিত্রই অন্য রকম উচ্চতায় পৌছে যায়।

তবে অভিনয়শিল্পী কিংবা নির্মাতাদের পাশাপাশি এ ছবির নায়ক হিসেবে ছবির শব্দগ্রহণ, আবহ সংগীত, চিত্রগ্রহণকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে। ‘দেবী’ দেখছিলাম, আর মনে হচ্ছিলো, এ ছবিটি অন্তত ওপার বাংলায় প্রদর্শন করা খুব বেশি জরুরি। আমাদের দেশেও যে আন্তর্জাতিক মানের কাজ হয়, বিশ্ববাসীর জানা উচিত।

সত্যি বলতে, গত কয়েকদিন ধরেই ‘দেবী’র ঘোরে আছি। তাই এই দীর্ঘ পোস্ট। তবে পুরো লেখাটা শেষ হবে না, যদি আমি আরেকজনের কথা না বলি। তিনি রুম্মান রশীদ খান। বন্ধু হিসেবে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি তার দরদের কথা, পাগলামীর কথা সবসময়ই আমি জানি। তবে ‘দেবী’র মাধ্যমে তিনি যা করে দেখালেন, তা আমাদের সবার জন্য একটা শিক্ষাই বলবো।

নজিরবিহীন, অভিনব প্রচারণা দিয়ে একটি চলচ্চিত্রকে কিভাবে সাধারণ দর্শকের দোরগোঁড়ায় পৌছে নেয়া যায়, এতদিন আমরা হয়তো সবাই ভেবেছি, এবার দেখলাম। আমি চাই ভালো ভালো সব ছবিতে রুম্মান রশীদ খান এভাবেই যুক্ত থাকবেন। সমৃদ্ধ করবেন আমাদের চলচ্চিত্র জগতকে। আমাদের সবাইকে।

সবশেষে আবারো জয়া আহসান ও তার প্রযোজনা সংস্থা সি তে সিনেমার কাছে অনুরোধ, প্রতি বছরে অন্তত একটি বাংলা চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে আমাদেরকে মুগ্ধ করবেন। আমি অভিনেতা ইমন সবসময় আপনার প্রযোজিত চলচ্চিত্রের সাথে থাকতে চাই। প্রত্যক্ষভাবে না হোক, মুগ্ধ দর্শক হিসেবে।সূত্র:কালের কণ্ঠ।

যেসব দর্শক এখনো ‘দেবী’ দেখেননি, শিগগীরই দেখে ফেলুন। সব মিলিয়ে ‘পয়সা উসুল’ একটি চলচ্চিত্র। এ বছরের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র। অনেক শুভ কামনা ‘দেবী’ টীমের জন্য।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৮ অক্টোবর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com