বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় স্কুলের জায়গায় দপ্তরীর স্থায়ী বসতঘর নির্মাণ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় স্কুলের জায়গায় দপ্তরীর স্থায়ী বসতঘর নির্মাণ

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ (সুনামগঞ্জ): নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী গোপাল রায়। স্কুলের জায়গা দখল, শিশু শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন নারী দপ্তরী গোপাল রায়ের যৌন লালসার শিকার হয়েছেন।

একের পর এক অসামাজিক ঘটনা ঘটিয়েই যাচ্ছে দপ্তরী গোপাল রায়। কিন্তু তার অপকর্মের সঠিক শাস্তি না হওয়ায় তার অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী গোপাল রায় ওই স্কুলের অর্ধেক জায়গায় স্থায়ী ঘর ও পাকা বাথরুম তৈরি করেছেন। ফলে পুরনো এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য খোলা জায়গা কিংবা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করার মতো কোনো জায়গা নেই। স্কুলের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে স্কুলের অর্ধেক জায়গা দখল করে রেখেছে দপ্তরী গোপাল রায়। ওই গুরুত্বপূর্ণ স্কুলটি ভোট কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার হয়ে আসছে বহুদিন ধরে।

এ বিষয়ে গ্রামের মাতাব্বর নিতাই সরকার বলেন গোপাল রায় যেখানে স্থায়ীঘর তৈরি করেছে ওই জায়গা সম্পূর্ণ স্কুলের। ওই গ্রামের সাবেক মেম্বার কালাই মিয়া তালুকদার বলেন দপ্তরী গোপাল রায় যেখানে অস্থায়ীভাবে ছোট পরিসরে ঘর নির্মাণ করে থাকার কথা, সেখানে তিনি লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা ল্যাট্রিন ও স্থায়ী ঘর করেছে। এতে গ্রামবাসিকে অপমান করেছে দপ্তরী গোপাল রায়। তারপর ওই দপ্তরীর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ।

নীতিরঞ্জন রায় বলেন দপ্তরী গোপাল রায় মদ খেয়ে যে ঘৃণ্য কাজ করেছে তা অমার্জনীয়। এব্যাপারে ২নং ওয়ার্ড সদস্য সুব্রত সরকার বলেন আজ থেকে ৩/৪ মাস পূর্বে একটি সাধারণ সভায় গোপাল রায় জানায় তার স্থায়ী ঘর ভেঙ্গে নিবেন ১৫ দিনের ভিতরে। কিন্তু সে কথা রাখেনি। গত ২৩ অক্টোবর (পরশুদিন) এক নারী তার শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে আমার কাছে বিচারপ্রার্থী হন। পরে শুনলাম গোপাল রায় আরো একটি ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার গ্রামের একজন অসহায় নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে সে। এসব ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে স্কুলের জায়গা দখলকারী দপ্তরী গোপাল রায়ের নিকট জায়গা দখলের বিষয়টি ও জায়গার কোনো কাগজপত্র আপনার নিকট আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি দম্ভোক্তির সহিত বলেন আপনাকে এসব কথার জবাব দিতে হবে নাকি? একাধিকবার এমন প্রশ্ন করলে একপর্যায়ে বলেন আমার কাছে কিছুই নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে থাকতে দিয়েছেন।

এবিষয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দাস বলেন স্কুলের জায়গা ৩৩ শতাংশ। তবে গোপাল রায়ের বসত ঘরটি খুব শীঘ্রই ভাঙ্গা হবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে শাল্লা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন স্থায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণ হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে দপ্তরীর বিরুদ্ধে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা কমিটির সভাপতি গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন এসব ঘটনা সত্য হলে তাকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া দরকার।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৫ অক্টোবর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com