বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

তারপরও সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজশাহীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত

তারপরও সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজশাহীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত

নিজেস্ব প্রতিবেদক : তারপরও সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজশাহীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বালু মহালের একাধিক ইজারাগণের অভিযোগ গোদাগাড়ী, টাংগন, ইউসুফপুর, মুক্তারপুর, শারদা, চারঘাট ও বাঘা তারা পূর্বের ন্যায় নিয়মিত বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বালু ঘাট গুলিতে অবৈধভাবে পদ্মা নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন ও বিক্রি দুটোই চলছে সমান তালে। যাকে বলে প্রকাশ্যে চুরি। আর এ সকল অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ কর্মকান্ড অব্যাহত থাকায় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অভিযোগ সংশিষ্ট ইজারাদারগণের।

সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই খনিজ সম্পদ বালু উত্তোলন করছে রাজশাহী নগরীর উপকন্ঠ টাংগন এলাকায়। স্থানীয়রা বলছে গত প্রায় ৫বছর যাবত টাংগন পশ্চিম পাড়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে দিন-রাত সমান তালে উত্তেলন করা হচ্ছে বালু।

স্থানীয়রা বলছে, ইতিপূর্বে বালু উত্তোলনের কারনে টাংগন পদ্মা নদীর পাড়ে বড় ধরনের একটি ধস নামে। তারপরও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা রিতিমতো থাকছে ভয়ে , আর টাকা ইনকাম নিয়ে ব্যস্ত অসাধু ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বালু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চুরিতে কোন দোষ নাই। যত প্রকার সমস্যা টেন্ডারে। যে সকল অবৈধ বালু ঘাট রাজশাহীতে রয়েছে এ সকল ঘাটগুলি এক যোগে টেন্ডার হলে সরকার কোটি কোটি রাজস্ব পেত। বালু চুরি বন্ধ হতো। আর শন্তিপূর্ণ ভাবে ব্যবসা করতো ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি শতশত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বড়তো এমনি বক্তব্য বালু ব্যবসায়ীদের।

অভিযোগ উঠেছে গোদাগাড়ী, টাংগন, ইউসুফপুর, মুক্তারপুর, শারদা, চারঘাট ও বাঘা বালু মহাল গত (১৪২৪ চৈত্র টেন্ডারের মেয়াদকাল শেষ হয়েছে) তারপরও ঘাট গুলিতে পূর্বের ন্যয় অবৈধভাবে নিয়মিত বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। যাহার সত্যতা জানা গেলো মুক্তারপুর বালু ঘাটের ইজারাগণের ম্যানেজার কালামের নিকট। তিনি অবশ্য বলেছেন বালু ঘাটের টেন্ডার হয়েছে। না জানলে যা হয়।

এ বিষয়ে গত (১৭ অক্টোবর) বুধবার দুপুরে গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউ.এন.ও) নিকট মুঠো ফোনে পৃথক পৃথক ভাবে জানতে চাইলে তারা ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন। বাস্তবতা হলো ওই সকল বালু ঘাট গুলিতে অবৈধভাবে ড্রেজিং-এর মাধ্যমে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। যাকে বলে প্রকাশ্যে বালু চুরি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াসহ উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবিও তোলেন ব্যবসা বঞ্চিত ঠিকাদারগণেরা।

উল্লেখ্য, গত (১১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক-এর সভাকক্ষে অবৈধ ভাবে পদ্মা নদী থেকে ড্রেজিং-এর মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও বিক্রির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজশাহীর সকল ঘাটে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকবে। এ সময় সভা কক্ষে উপস্থিত থাকা নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেটদের প্রত্যেকদিন ভ্র্যাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত টেন্ডারকৃত ৫টি ঘাটের সকল কার্যক্রম বন্ধো থাকবে। তার পরও আজ আবদি বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৫ অক্টোবর  বৃহস্পতিবার ২০১৮ 





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com