বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

চিন ও রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় সমুদ্রের গভীরে ড্রোন নামাবে আমেরিকা

চিন ও রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় সমুদ্রের গভীরে ড্রোন নামাবে আমেরিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এবার ড্রোন তৈরির বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। যেভাবে সামরিক ক্ষেত্রে চিন ও রাশিয়া শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তা ক্রমশ আমেরিকার কাছে চালেঞ্জ হয়ে উঠছে। আর সেই লক্ষ্যে চিন কিংবা রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় এই ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন বিমানবাহিনী যখন নির্বিচারে ড্রোন ব্যবহার করছে তখন এ পদক্ষেপ নিল দেশের নৌবাহিনী।

মার্চে ইকো ভয়েজার নামের একটি নৌড্রোনের কথা প্রকাশ করেছে বোয়িং। বোয়িং’এর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কাজে ইকো ভয়েজারের কথা তুলে ধরা হয়। ৫১ ফুট লম্বা চালকহীন জলের তলের ড্রোনটি দিয়ে নজরদারি তৎপরতার চালানোর কথা বলা হয়েছে। ব্যাটারি এবং ডিজেল চালিত ইকো ভয়েজার টানা কয়েক মাস জলের নিচে থাকতে পারে। এ ভাবে সাগরের খারাপ আবহাওয়াকে এড়িয়ে যেতে পারে এই নৌড্রোন। এ ছাড়া, ব্যাটারি বদলের জন্য মাঝে মাঝে ভেসে উঠতে হয় একে।

ভবিষ্যতে জলের তলে চালকহীন যানের তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে ইকো ভয়েজার। বোয়িং ফ্যান্টাম ওয়ার্কসের প্রেসিডেন্ট ডেরি ডেভিস এমনটাই বলেছেন। আসন্ন শরৎকালে ইকো ভয়েজার পরীক্ষামূলক ভাবে সাগরে নামানো হবে। প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার উপস্থিতি বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হবে।

মার্কিন বার্ড কলেজের সেন্টার ফর স্টাডি অব দ্যা ড্রোন’এর সহ-পরিচালক আর্থার হোলান্ড মাইকেল দাবি করেছেন, চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার উত্তেজনা বাড়ছে। দেশ দু’টির বিশাল নৌবাহিনী রয়েছে আর এ অবস্থায় নৌজগতে চালকহীন প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহও স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে চলেছে। আগামী ৩০ বছরের মধ্যে নৌড্রোন পুরো মাত্রায় ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ সব ড্রোন হবে নানা আকারের এবং নির্ভরযোগ্য। এ ছাড়া, উচ্চমাত্রায় স্বয়ংক্রিয় হবে এ গুলো।

আগামী অর্থ বছরে নৌড্রোন উন্নয়ন খাতে ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় করার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। ইকো ভয়েজার ছাড়াও  সি হান্টার নামের জলের তলের আরেকটি ড্রোন নিয়ে কাজ করছে পেন্টাগন। জলের তলা থেকে শত্রু জাহাজ শনাক্ত এবং অনুসরণের কাজ করবে সি হান্টার। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে সি হান্টারকে আরও চৌকস করে তোলা হচ্ছে। আকাশের ড্রোন সহজে তথ্য প্রেরণ করতে পারে জলের তলের ড্রোনের তা পারে না। নৌড্রোনকে ব্যাপক হারে ব্যবহার করতে চাইলে এ ক্ষেত্রে আরো উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ ছাড়া, ঝড় উঠলে কোনো কোনো নৌড্রোন বন্দরেই আটকা পড়ে যায়। এ সীমাবদ্ধতা দূর করে অদূর ভবিষ্যতে নৌড্রোন ব্যাপক তৎপরতা চালাবে বলে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৫ অক্টোবর  বৃহস্পতিবার ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com