বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট: স্বাস্থ্য খাতে নতুন দিগন্ত

শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট: স্বাস্থ্য খাতে নতুন দিগন্ত

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : ২০১৪ সাল। আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতিতে মেতে উঠে বিএনপি জামায়াত। শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ২৫১ জন। বিএনপি জামায়াতের পেট্রোল বোমার আগুনে আহত হয় সহস্রাধিক।

২০১৫ সাল। একদিকে আওয়ামী লীগ সরকার যখন দেশবাসীকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে অন্যদিকে বিএনপি জামায়াত আবারো মেতে উঠে মানুষ হত্যার রাজনীতিতে। ২০১৫ সালে বিএনপি জামায়াত পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে ২৩১ জনকে। আগুনে পুড়ে আহত হয় কয়েক হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো যানবাহন। আগুনে পোড়া মানুষের গন্ধে ভারী হয়ে উঠে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিবেশ। আগুনে পোড়া হাজার হাজার মানুষদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খায় চিকিৎসকরা। এরপর থেকেই একটি আলাদা বার্ন ইনস্টিটিউট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ও সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে দুই একর জমির উপর নির্মিত হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট। আগুনে পোড়া রোগীর সুচিকিৎসার নবদিগন্ত উন্মোচিত হলো বাংলাদেশে।

১৮তলা বিশিষ্ট এ ইনস্টিটিউটটির মাটির নিচে তিনতলা বেজমেন্ট। সেখানে গাড়ি পার্কিং ও রেডিওলজিসহ আরও কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভাগ রাখা হয়েছে। ইনস্টিটিউটটিতে ৫০০টি শয্যা, ৫০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার ও অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড আছে। ব্যথা ও জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং রুমও রয়েছে। কানাডা থেকে আনা হয়েছে লাইভ ইমেজিং সিস্টেম নামে একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র যার মাধ্যমে পোড়া রোগীর কি অবস্থা তা নিখুঁত ভাবে নির্ণয় করে দেশে চিকিৎসা করা যাবে। থাকছে অত্যাধুনিক বোন কেয়ার সেন্টার। এই সেন্টারে স্টেমসেল থেরাপির মাধ্যমে বাত সহ আরও অনেক ধরণের হাড়ের রোগের নিরাময় সম্ভব। এই ভবনটি তিনটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে থাকবে বার্ন ইউনিট, অন্যদিকে প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আর অন্য ব্লকটিতে করা হবে একাডেমিক ভবন। দেশে এই প্রথম কোনো সরকারি হাসপাতালে যুক্ত  করা হয়েছে হেলিপ্যাড। এখানে নার্স ও প্যারামেডিক্যাল প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

বছরে প্রায় ১০ লাখ লোক আগুনে পুড়ে যাওয়ার শিকার হয়। তাদের ৮০ ভাগেরই প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হয়। পোড়া ও প্লাস্টিক সার্জারির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পোড়া রোগীদের কারো কারো হাত, পা, শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ বেঁকে যায়। এক্ষেত্রে তাদের প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই সার্জারি করার পর তারা অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। এছাড়া ঘটনা-দুর্ঘটনায় আহতদের অনেকেই প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হয়। ক্যান্সার সার্জারি, স্তন ক্যান্সার সার্জারি ও  সংক্রমণের কারণে হাতের সার্জারির ক্ষেত্রে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। জন্মগত ত্রুটি , ঠোঁট কাটা, তালু কাটাদেরও প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জীবিত ও মৃত ব্যক্তিদের স্কিন সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে। যার নাম স্কিন ব্যাংক। পোড়া কোনো রোগীর স্কিন প্রয়োজন হলে সেখান থেকে স্কিন গ্রাফটিং করার ব্যবস্থা রয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অত্যাধুনিক বার্ন ইনস্টিটিউট উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। আগে পোড়া রোগীদের অত্যাধুনিক চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যেতে হতো। সেই অত্যাধুনিক চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

সূত্র: বাংলার আমরা

রাজশাহীর সময় ডট কম – ২৪ অক্টবর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com