মঙ্গলবার, ১৬ Jul ২০১৯, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে ভর্তির ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান লাপাত্তা : বিপাকে ৩০ শিক্ষার্থী

রাজশাহীতে ভর্তির ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান লাপাত্তা : বিপাকে ৩০ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবা উপজেলার ইউনাইটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে বিএসসি কোর্সে ভর্তি হয়ে বিপাকে পড়েছেন ৩০ জন শিক্ষার্থী। তাদের শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চিত। প্রত্যেক শিক্ষার্থী ৪০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করেও পরীক্ষায় বসতে পারেনি।

৩০ শিক্ষার্থীর মোট ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন হদিস মিলছে না কলেজটির ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের। এ নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় শাহমুখদুম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। গত ২৭ জুন থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ অন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর একই শিক্ষাবর্ষের (২০১৮-১৯) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হলেও তাদের পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ৩০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন।

ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে, তারা কিছু জানেন না উল্লেখ করে ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীরা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে এক পর্যায়ে মোবাইলে যোগাযোগ করলেও তাদের কল রিসিভ করেননি ব্যবস্থাপক। ফলে বাধ্য হয়ে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের দফতরে যান।

সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ইন্সটিটিউট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রেজিষ্ট্রেশন করেনি। ফলে তারা ইন্সটিটিউটে নির্ধারিত ফিস জমা দিয়ে ভর্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। ফলে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পবা উপজেলা পরিষদের দক্ষিণে অবস্থিত ইউনাইটেড বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইউনাইটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট কলেজ এই দুইটি নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিক হচ্ছে দুইটি আবাসিক ভবনে।

কলেজ সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ৮ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ৭ জন ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ১৫ জন ভর্তি হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ১০ হাজার, সেমিস্টার ফিস বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং পরীক্ষার ফিস বাবদ ৫ হাজারসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। নিয়মিত ক্লাসও নেওয়া হয়। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দফতরে কোনো টাকা জমা দেয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেন না হওয়ায় তাদের নামে কোনো প্রবেশপত্রও ইস্যু করেনি রাবি কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শামিউল ইসলাম বলেন, আমরা ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন এবং পরীক্ষা ফিস বাবদ প্রায় ৪০ হাজার করে টাকা দিয়েছি। নিয়মিত ক্লাসও করেছি। এখন শুনছি আমাদের রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কোনো নামও নেই। ফলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগও নেই। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আমরা ইন্সটিটিউটে গিয়ে টাকা ফেরত চেয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ভর্তির সময়ে নেয়া আমদের এইচএসসি’র সার্টিফিকেট ও মার্কসশিট ফেরত দিয়েছেন। কোনো টাকা ফেরত দেয়নি। ইন্সটিটিউটের এমডি দেশেও নেই বলে জানিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তায়েব ফারাজি ও সিভিল ইঞ্জিনিয়রিং বিভাগে মারুফ হাসানও একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফিস বাবদ জমা দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। তবে আদৌ তারা টাকা ফেরত পাবেন কিনা তা বুঝতে পারছেন না তারা। এ বিষয়ে জানতে পবা উপজেলা পরিষদের দক্ষিণে অবস্থিত ওই ইন্সটিটিউটে গিয়েও মহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের দেখা মেলেনি। পরে তার মোবাইলে একাধিকারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

শনিবার (১৩-জুলাই) দুপুরে ওই ইন্সটিটিউটের রিসিপশনিস্ট নিপা নামে একজন মোবাইলে জানান, ইন্সটিটিউটের এমডি মেহেদী হাসান দেশে নেই। কবে আসবেন তাও তিনি বলতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন না হওয়া এবং টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হওয়া প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। টাকার অভাবে নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন না হওয়ায় ভর্তি হতে পারছে না। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের টাকা এমডি ফেরত দিতে চেয়েছেন বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে রাবির কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক এম. মজিবুর রহমান বলেন, ওই ইন্সটিটিউট গত তিন বছর বিএসসি শাখার কোনো নবায়ন ফিস জমা দেয়নি। তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করালেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। ফলে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ওই ইউনাইটেড ইন্সটিটিউটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে।

জানতে চাইলে শাহমুখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীরা ইউনাইটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

রাজশাহীর সময় ডট কম১৪ জুলাই ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com